1. soburahmed@gmail.com : Falcon News 24 : Falcon News 24
  2. ashraf@websofttechnologyltd.com : Falcon News 24 : Falcon News 24
  3. sharifonline@gmail.com : Falcon News 24 : Falcon News 24
শিরোনামঃ
ইরান ও ওমানের মধ্যে হরমুজ প্রণালি চুক্তি শীঘ্রই সম্ভব: মার্কিন কর্মকর্তা কেবল বিমান হামলা করে ইরানকে কাবু করা সম্ভব নয়: ট্রাম্পের শীর্ষ জেনারেল জ্বালানি তেল আমদানি ও বিপণন বেসরকারি খাতে ছাড়ার উদ্যোগ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আলোচনার কেন্দ্রে মির্জা ফখরুল “আমরা কাউকে অসম্মান করতে আসিনি, জনগণের দাবি নিয়ে এসেছি”: জামায়াত আমির জামায়াত কর্মীকে শিশু নিপীড়নের অভিযোগে সালিশে ৫০ বেত্রাঘাত ও জরিমানা ট্রাম্পের বক্তব্য: ইরানের সঙ্গে সমঝোতা চাই, হামলা নয় হরমুজ প্রণালিতে আবারও ট্যাংকার বিস্ফোরণের খবর শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে দিলে ধরে নেওয়া হবে ভারত ইন্ধন দিচ্ছে: আসিফ মাহমুদ নারায়ণগঞ্জে ছাত্রদল-শিবিরের সংঘর্ষ, আহত ৫

জ্বালানি তেল আমদানি ও বিপণন বেসরকারি খাতে ছাড়ার উদ্যোগ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬
  • ২৪ বার দেখা হয়েছে

জ্বালানি তেল আমদানি, সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণন কার্যক্রম বেসরকারি খাতে উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির নীতিমালা প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ। এ-সংক্রান্ত গঠিত এক কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এখন খসড়া নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে। এ ধরনের উদ্যোগ নতুন নয়। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির দায়িত্ব বেসরকারি খাতে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে তা বাস্তবায়নের পর্যায়ে যায়নি।

জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বেসরকারি পর্যায়ে জ্বালানি তেল আমদানি ও বিপণনের অনুমতি চেয়ে চারটি ব্যবসায়িক গ্রুপ সরকারের কাছে আবেদন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে টিকে গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপ। এর মধ্যে বসুন্ধরা বাদে বাকি তিনটি কোম্পানি দেশে রিফাইনারি বসিয়ে ক্রুড অয়েল আমদানি করে তা পরিশোধনের মাধ্যমে বিক্রির অনুমতি চেয়েছে বলে একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। শুধু বসুন্ধরা গ্রুপ পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির বিষয়ে আবেদন করেছে।

২৪ মে আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপের (এবিজি) চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীর স্বাক্ষরিত চিঠিতে দীর্ঘ মেয়াদে জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার অংশীদার হওয়ার লক্ষ্যে বসুন্ধরা অয়েল অ্যান্ড গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডকে (বিওজিসিএল) নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, বিক্রি ও বিপণনের অনুমতি দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।

আবেদনে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটি প্রায় পাঁচ বছর ধরে নিজস্ব রিফাইনারিতে অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করে দেশে জ্বালানি উৎপাদন ও সরবরাহ করছে। পাশাপাশি উল্লেখ করা হয়, দেশের জ্বালানির চাহিদা প্রতিবছর ২ থেকে ৪ শতাংশ হারে বাড়ছে এবং ২০৩০ সালে তা ৯ থেকে ১০ মিলিয়ন টনে পৌঁছাতে পারে, যার বড় অংশই আমদানিনির্ভর হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা থাকবে ডিজেলের।

এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৪ জুলাই জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের অফিস আদেশে বিপিসির পরিচালককে (অপারেশন্স) আহ্বায়ক করে ১১ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে বিপিসির পরিচালক (অর্থ), পরিচালক (পরিকল্পনা), ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক (হিসাব), মহাব্যবস্থাপক (অর্থ), মহাব্যবস্থাপক (বণ্টন ও বিপণন), মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপারেশন), যমুনা, পদ্মা ও মেঘনা পেট্রোলিয়াম কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বিপিসির ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপারেশন) সদস্য সচিব হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন।

কমিটিকে দুই কার্যদিবসের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। কার্যপরিধিতে ছিল বিদ্যমান পেট্রোলিয়াম আইন, বিধি ও নীতিমালার আলোকে বসুন্ধরার আবেদনের আইনগত ভিত্তি ও গ্রহণযোগ্যতা যাচাই; প্রস্তাবিত বার্ষিক আমদানি (ডিজেল ১৫-২০ লাখ টন, অকটেন ২ লাখ টন, পেট্রোল ১.৫ লাখ টন এবং ফার্নেস অয়েল ৮-১০ লাখ টন) ও বিপণন কাঠামোর বাণিজ্যিক বাস্তবতা মূল্যায়ন; অনুমতি দেওয়া হলে বিপিসি এবং এর অধীন যমুনা, পদ্মা ও মেঘনা পেট্রোলিয়াম কোম্পানির বাজার হিস্যা, রাজস্ব ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষণ; দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, সরবরাহ ব্যবস্থার বৈচিত্র্য এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজার কাঠামোর আলোকে আবেদনটির তুলনামূলক মূল্যায়ন। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সদস্য কো-অপ্ট করার ক্ষমতাও কমিটিকে দেওয়া হয়।

সূত্র জানায়, কমিটি ২১ জুলাই প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরই বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির খসড়া নীতিমালা তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত ৬ আগস্ট জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অপারেশন-২ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব আসিফ আহমেদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণনের জন্য একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন প্রয়োজন। একই চিঠিতে বিপিসির চেয়ারম্যানকে ১০ আগস্টের মধ্যে ‘বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি, সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণন নীতিমালা-২০২৬’-এর খসড়া পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

বর্তমানে বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের প্রায় ৯৫ শতাংশ চাহিদা আমদানির মাধ্যমে পূরণ হয়। বছরে গড়ে ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করে বিপিসি। এর মধ্যে প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ লাখ টন পরিশোধিত তেল এবং ১৪ থেকে ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল। সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে মূলত সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, ওমান, কাতার ও ভারত থেকে এসব জ্বালানি আমদানি করা হয়। বর্তমানে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির দায়িত্ব পুরোপুরি বিপিসির হাতেই রয়েছে। তবে বিদ্যমান ব্যবস্থায় ব্যতিক্রম হিসেবে বেসরকারি খাতের কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বিপিসির অনুমোদন নিয়ে নিজেদের ব্যবহারের জন্য ফার্নেস অয়েল আমদানি করে থাকে। অন্যদিকে সরকারি-বেসরকারি সব তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেল বিপিসিই আমদানি করে।

এদিকে সরকারের এই উদ্যোগের বিরোধিতা করেছে জ্বালানি খাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের সংগঠন বাংলাদেশ অয়েল অ্যান্ড গ্যাস ওয়ার্কার্স ফেডারেশন। সংগঠনটির নেতারা বুধবার এক জরুরি সভায় বলেন, জ্বালানির মতো স্পর্শকাতর খাত বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া হলে তা সরকারের জন্য আত্মঘাতী এবং দেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হবে। ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কায়ছার হামিদের অভিযোগ, সরকারের ভেতরের একটি সুবিধাবাদী মহল বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত তেল আমদানির সুযোগ তৈরি করতে চাইছে। এতে দেশের মানুষ মুষ্টিমেয় কিছু ব্যবসায়ীর কাছে জিম্মি হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা ড. এম শামসুল আলম বলেন, কার্যকর ও শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক সংস্থা ছাড়া এমন উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে অতীতের মতো ভোক্তারা ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।

নিউজটি শেয়ার করুন
এই ধরনের আরও নিউজ

পুরাতন নিউজ খুঁজুন

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহস্পতি শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
© কপিরাইট ২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: সবুর আহমেদ