
বিশ্বকাপ শুরুর আগে রক্ষণভাগের পারফরম্যান্সে অন্য সব দলকে ছাড়িয়ে গেছে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ২০২৩ সাল থেকে এখন পর্যন্ত খেলা ম্যাচগুলোর পরিসংখ্যানে ‘ক্লিন শিট’ ধরে রাখার হারে শীর্ষে রয়েছে লিওনেল স্কালোনির দল।
ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম গ্লোবো স্পোর্তের পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৩ সাল থেকে আর্জেন্টিনা ৩৯ ম্যাচের মধ্যে ২৮টিতে কোনো গোল হজম করেনি। শতাংশের হিসেবে যা ৭১.৮ শতাংশ। বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী ৪৮টি দলের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ।
শুধু ক্লিন শিট নয়, গোল হজমের দিক থেকেও সেরা আর্জেন্টিনা। এই সময়ে তারা মাত্র ১৪ গোল হজম করেছে, যা বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া অন্য যেকোনো দলের চেয়ে কম।
ক্লিন শিটের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মরক্কো। আফ্রিকার দলটি ৬৩.৮ শতাংশ ম্যাচে গোল হজম না করে ম্যাচ শেষ করেছে। এরপর রয়েছে সেনেগাল, জাপান ও ডিআর কঙ্গো।
মরক্কো সংখ্যার দিক থেকে ৩৭টি ক্লিন শিট অর্জন করলেও বেশি ম্যাচ খেলায় শতাংশের হিসাবে আর্জেন্টিনার নিচে অবস্থান করছে।
পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের রক্ষণভাগ এই সময়ে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। ৩৭ ম্যাচের মাত্র ১১টিতে ক্লিন শিট ধরে রাখতে পেরেছে তারা। শতাংশের হিসাবে যা ২৯.৭।
বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ৪৮ দলের মধ্যে এই পরিসংখ্যানে ব্রাজিলের অবস্থান ৪৩তম। এছাড়া বিশ্বকাপের আগে নিজেদের সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচেই গোল হজম করেছে কার্লো আনচেলত্তির দল।
বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার ফ্রান্স ও স্পেনও ক্লিন শিটের পরিসংখ্যানে খুব একটা এগিয়ে নেই। ফ্রান্স ৪০ ম্যাচের মধ্যে ১৮টি এবং স্পেন ৩৮ ম্যাচের মধ্যে ১৮টি ম্যাচে ক্লিন শিট ধরে রাখতে পেরেছে। পর্তুগালও শীর্ষ দশের বাইরে রয়েছে।
বাংলাদেশে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের সমর্থকসংখ্যা অত্যন্ত বেশি। বিশ্বকাপের আগে এমন পরিসংখ্যান দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা ও প্রত্যাশার জন্ম দিয়েছে।
বিশ্বকাপের আগে রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় আর্জেন্টিনা স্পষ্টভাবে এগিয়ে থাকলেও ব্রাজিলের দুর্বলতা তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে শেষ পর্যন্ত মাঠের পারফরম্যান্সই নির্ধারণ করবে আসল ফলাফল।