
বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী শিল্প খাত নতুন এক চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়েছে। উৎপাদন ব্যয় ও শ্রম খরচ বাড়লেও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত মূল্য না পাওয়ায় বড় পরিসরে কর্মী কমানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক একে আজাদ।
সম্প্রতি এক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রায় ৭৫ হাজার মানুষের মধ্যে ১০ হাজার কর্মী কমানোর পরিকল্পনা করতে হতে পারে। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের ক্রেতারা পণ্যের দাম বাড়াতে রাজি নন, অথচ দেশে মূল্যস্ফীতি ও শ্রম ব্যয় ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।
একে আজাদের ভাষ্যমতে, দেশে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৯ শতাংশ মূল্যস্ফীতি হচ্ছে। এর প্রভাবে শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি ও নিয়মিত ইনক্রিমেন্ট দিতে হচ্ছে। ফলে উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাচ্ছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে গিয়ে সেই বাড়তি ব্যয় পণ্যের দামের মাধ্যমে সমন্বয় করা সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, বিদেশি ক্রেতারা এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থার দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাদের প্রত্যাশা, কম জনবল ব্যবহার করে আরও বেশি উৎপাদন নিশ্চিত করা। ফলে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোও ব্যয় কমানোর নতুন পথ খুঁজতে বাধ্য হচ্ছে।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস। এই খাতে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে। তাই বড় পরিসরে কর্মী কমানোর সম্ভাবনার বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো ধারাবাহিকভাবে জনবল কমানোর পথে হাঁটে, তাহলে কর্মসংস্থান বাজারে চাপ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন বাড়লে শ্রমিকদের নতুন দক্ষতা অর্জনের প্রয়োজনও বাড়বে। সরকার ও শিল্পমালিকদের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো কঠিন হতে পারে।
সংক্ষেপে বলা যায়, বাড়তি উৎপাদন ব্যয়, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা এবং প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের চাপ শিল্পখাতকে নতুন বাস্তবতার সামনে দাঁড় করিয়েছে, যার একটি বড় উদাহরণ একে আজাদের এই মন্তব্য।