
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে এক তরুণী ও তার দুই ভাই-বোনকে গাছে বেঁধে মারধর করে চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সখিপুরের ছৈয়াল কান্দি এলাকায়। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি অনুযায়ী, স্থানীয় মুদি দোকানি আবুল মোল্লার ছেলে মনির মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে তরুণীকে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন এবং বারবার কুপ্রস্তাব দিয়েছিলেন। মঙ্গলবার সকালে তরুণী তার ছোট বোন (১৩) ও ভাইকে (৭) নিয়ে মনিরের দোকানে কেনাকাটা করতে গেলে সেখানে তিনি তাকে অশালীন কথাবার্তা ও রাতে দেখা করার প্রস্তাব দেন। প্রতিবাদ করায় মনির তরুণী ও তার ভাই-বোনকে দোকানের পাশের এক বাড়িতে নিয়ে একটি কক্ষে আটকে রাখেন।
পরবর্তীতে মনিরসহ কয়েকজন তাদের গাছের সাথে বেঁধে মারধর করেন এবং তরুণীর মাথার চুল কেটে দেন। তাকে জুতার মালা পরানোও হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি অনুযায়ী, স্থানীয়রা চিৎকার শুনে এগিয়ে এলে তাদের চুরির অপবাদ দেওয়া হয়। পুলিশ খবর পেয়ে দুপুর ১২টার দিকে তিন ভাই-বোনকে উদ্ধার করে এবং তাদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়।
এ ঘটনায় শুক্রবার ভুক্তভোগীর মা ছয়জনের নাম উল্লেখসহ মামলা দায়ের করেন। পুলিশ রাতেই দু’জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন আফসানা সরদার (৫০) ও আমির (৩০)। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোফাজ্জল হুসাইন।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, মনির দীর্ঘদিন ধরে তরুণীকে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন এবং বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দিতেন। প্রতিবাদ করায় তাকে ও তার ভাই-বোনকে বাড়িতে নিয়ে আটকে রেখে মারধর করা হয়। পুলিশ উদ্ধারের পর তরুণী ও তার ভাই-বোনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভুক্তভোগীর মা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চেয়েছেন।