
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে তীব্র মতবিরোধের খবর সামনে এসেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, লেবাননের রাজধানী বৈরুতে সম্ভাব্য ইসরায়েলি হামলা নিয়ে দুই নেতার মধ্যে উত্তপ্ত ফোনালাপ হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প বৈরুতে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনায় অসন্তুষ্ট ছিলেন। তিনি মনে করেন, এমন পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং ইরানকে ঘিরে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও ব্যাহত হতে পারে। এ সময় ট্রাম্প নেতানিয়াহুর প্রতি কড়া ভাষা ব্যবহার করেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অ্যাক্সিওসের দাবি, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে সতর্ক করে বলেন যে অতিরিক্ত সামরিক পদক্ষেপ ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও বিচ্ছিন্ন করতে পারে। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, অতীতে বিভিন্ন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন না থাকলে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অবস্থান আরও দুর্বল হতে পারত।
গত কয়েক মাস ধরে ইসরায়েল ও লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। যদিও এপ্রিলের মাঝামাঝি একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল, সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় পরিস্থিতি আবারও অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে।
এদিকে ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে জানিয়েছেন, তিনি নেতানিয়াহুকে বৈরুতে বড় ধরনের হামলা না চালানোর অনুরোধ করেছেন। পাশাপাশি হিজবুল্লাহ-সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গেও কথা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, উভয় পক্ষই আপাতত উত্তেজনা কমানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে।
তবে নেতানিয়াহুর বক্তব্য কিছুটা ভিন্ন। তিনি জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহর হামলা অব্যাহত থাকলে বৈরুতের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর বিকল্প এখনো বিবেচনায় রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাত শুরু হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। তেলের দাম বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশে আমদানি ব্যয়, পরিবহন খরচ এবং সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির ওপরও প্রভাব পড়তে পারে।
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে প্রকাশ্য মতবিরোধ মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে, যদিও সংঘাত কমানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এখনো অব্যাহত রয়েছে।