
ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কড়াকড়ি যখন তুঙ্গে, তখন প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান এক অভাবনীয় এবং দুঃসাহসিক কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়েছে। সমুদ্রপথে বাধার মুখে পড়া ইরানের অর্থনীতিকে সচল রাখতে নিজেদের ভূখণ্ডের ওপর দিয়ে ছয়টি বিশেষ ট্রানজিট রুট বা স্থলপথ উন্মুক্ত করেছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত ২৫ এপ্রিল এক আদেশের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক করিডর চালুর ঘোষণা দেয়।
মূল খবর ও প্রেক্ষাপট হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌবাহিনীর কড়াকড়ি এবং যুদ্ধের আশঙ্কায় ইরানের সমুদ্রপথে বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। করাচি বন্দরে বর্তমানে প্রায় ৩ হাজার কনটেইনার আটকা পড়ে আছে। এই অচলাবস্থা কাটাতে পাকিস্তানের করাচি, পোর্ট কাসিম এবং গোয়াদার বন্দরকে ইরানের গাবদ ও তাফতান সীমান্তের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা হয়েছে। করাচি থেকে ইরান পৌঁছাতে যেখানে আগে ১৮ ঘণ্টা লাগত, নতুন রুটে সেই সময় এবং খরচ—উভয়ই প্রায় ৪৫ থেকে ৫৫ শতাংশ কমে আসবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সাম্প্রতিক ইসলামাবাদ সফরের পরই এই বড় ঘোষণা এল। এটি শুধু বাণিজ্যিক নয়, বরং পাকিস্তান ও ইরানের মধ্যকার এক গভীর রাজনৈতিক ও সামরিক বন্ধুত্বের বার্তা। মজার বিষয় হলো, পাকিস্তান এই ট্রানজিট সুবিধা দিলেও ভারতের জন্য তাদের ভূখণ্ড ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে বহাল রেখেছে।
বাংলাদেশে প্রভাব আঞ্চলিক এই পরিবর্তনের ঢেউ সরাসরি বাংলাদেশেও আছড়ে পড়তে পারে। পাকিস্তান ও ইরান যদি এভাবে সরাসরি সড়কপথে যুক্ত হয়, তবে মধ্য এশিয়া ও ইউরোপের বাজারে পণ্য পাঠানোর বিকল্প রাস্তা তৈরি হবে। মুসলিম প্রধান দেশগুলোর এই শক্তিশালী অর্থনৈতিক জোট ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জন্য নতুন বাণিজ্যের বাজার তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি সংকটের এই সময়ে ইরান-পাকিস্তান ঘনিষ্ঠতা দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানির নতুন পথ খুলে দিতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে বাংলাদেশের জন্য এই দুই বলয়ের ভারসাম্য রক্ষা করাটা হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
সারসংক্ষেপ মার্কিন চাপ উপেক্ষা করে ইরানকে স্থলপথ ব্যবহারের সুযোগ দিয়ে পাকিস্তান এই অঞ্চলে নিজের কৌশলগত গুরুত্ব এবং নতুন মিত্রতার এক সাহসী বার্তা দিল। এটি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।