
সৌদি আরবে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক হামলার পর প্রশ্ন উঠেছে গত মাসে স্বাক্ষরিত মক্কা চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে। হামলার ঘটনায় সৌদি আরবের প্রতি তীব্র নিন্দা ও সংহতি জানালেও চুক্তির অংশীদার তুরস্ক ও পাকিস্তান এখনও সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের ঘোষণা দেয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, আপাতত সংঘাতে সরাসরি না জড়িয়ে রিয়াদকে গোয়েন্দা তথ্য, আকাশ প্রতিরক্ষা ও ড্রোন সক্ষমতা দিয়ে সহযোগিতা করতে পারে দেশ দুটি।
গত সপ্তাহে সৌদি আরবে চারটি শহর ও একটি তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলা চালায় হুতি বিদ্রোহীরা। এ হামলায় প্রধান দুটি প্রশ্ন সামনে উঠে এসেছে – তেল সরবরাহকারী হিসেবে সৌদি আরবের নির্ভরযোগ্যতা এবং মক্কা চুক্তির বাস্তব কার্যকারিতা।
মক্কা চুক্তিতে বলা রয়েছে, কোনো সদস্য রাষ্ট্রের ওপর হামলাকে অন্যদের ওপরও হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। কিন্তু সৌদি আরবে হামলার পরও তুরস্ক ও পাকিস্তান প্রত্যক্ষ সামরিক প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। ফলে চুক্তির বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়।
বর্তমানে নজর রয়েছে তুরস্ক ও পাকিস্তানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। বিশেষ করে তারা কীভাবে এ হামলাকে চুক্তির আওতায় মূল্যায়ন করে এবং কোন ধরনের পাল্টা ব্যবস্থা নেয়, তা-ই এখন মূল আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, হামলা অব্যাহত থাকলে মক্কা চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে বিতর্ক তীব্রতর হবে। তখন ‘এক দেশের উপর হামলা সবার উপর হামলা’ – এই প্রতিশ্রুতির বাস্তব রূপান্তর নিয়েই উঠবে কঠিন প্রশ্ন। এই ঘটনা তাই শুধু সৌদি নিরাপত্তা নয়, বরং নতুন জোটের পারস্পরিক আস্থা ও সক্ষমতারও এক বড় পরীক্ষা বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।