
বিস্তারিত:
দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩১ কোটি ৮৮ লাখ টাকায়। একই সঙ্গে শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপি প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সোমবার (৬ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের নবম দিনে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাতের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। অধিবেশনটি পরিচালনা করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
অর্থমন্ত্রী জানান, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী এই বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ রয়েছে ব্যাংকিং খাতে। এছাড়া বর্তমান সংসদ সদস্য ও তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১১ হাজার ১১৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা।
তবে আদালতের নির্দেশনার কারণে আরও ৩ হাজার ৩৩০ কোটি ৮ লাখ টাকা খেলাপি হিসেবে গণনা করা হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সংসদে উপস্থাপিত তালিকা অনুযায়ী দেশের শীর্ষ ঋণ খেলাপি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে—
- এস. আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেড
- এস. আলম ভেজিটেবল অয়েল লিমিটেড
- সালাম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড
- এস. আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লিমিটেড
- সোনালী ট্রেডার্স
- বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি লিমিটেড
- গ্লোবাল ট্রেডিং করপোরেশন লিমিটেড
- কেমন ইস্পাত লিমিটেড
- এস. আলম ট্রেডিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড
- ইনফিনিট সিআর স্ট্রিপস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড
- কেয়া কসমেটিকস লিমিটেড
- দেশবন্ধু সুগার মিলস লিমিটেড
- পাওয়ার প্যাক মুতিারা কেরানীগঞ্জ পাওয়ার প্ল্যান্ট লিমিটেড
- পাওয়ার প্যাক মুতিারা জামালপুর পাওয়ার প্ল্যান্ট লিমিটেড
- প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেড
- কর্ণফুলী ফুডস (প্রা.) লিমিটেড
- মুরাদ এন্টারপ্রাইজ
- সিএলসি পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড
- বেক্সিমকো কমিউনিকেশন্স লিমিটেড
- রংধনু বিল্ডার্স (প্রা.) লিমিটেড
খেলাপি ঋণ আদায়ে সরকারের পদক্ষেপ:
অর্থমন্ত্রী জানান, খেলাপি ঋণ কমাতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
- উচ্চ খেলাপি ঋণ থাকা ব্যাংকগুলোর সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক
- বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে অগ্রগতি মূল্যায়ন
- ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের (Wilful Defaulters) বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা
- ব্যাংকের লিগ্যাল টিম শক্তিশালী করা
- বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (ADR) ব্যবস্থার মাধ্যমে ঋণ আদায়
- ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে অন্তত ১% খেলাপি ঋণ নগদ আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ
এছাড়া ঋণ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ঝুঁকি মূল্যায়ন ও প্রভিশনিং নীতিমালা বাস্তবায়নের কথাও জানান তিনি।