
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে আটদিন ধরে চলমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। দুই মার্কিন সামরিক কর্মীর মৃত্যু এবং একটি হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই সংঘাত আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, ইরানের বিপক্ষে এই হামলাগুলোইরানের মিসাইলের সক্ষমতা এবং পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করতে পরিচালিত হচ্ছে।
এই সংঘাতের পটভূমি হলো গত মাসে স্বাক্ষরিত একটি অন্তর্বর্তী শান্তিচুক্তি সম্প্রতি ভেঙে পড়েছে। ইউএস প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় এই হামলাগুলো শুরু হয়। ইরানের বিপক্ষে এই হামলাগুলো পরিচালনা করা হচ্ছে পারস্য উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে ইরানের হুমকির সক্ষমতা কমাতে। পাশাপাশি জর্ডানে মার্কিন সৈন্যদের ওপর ইরানি হামলার প্রতিশোধ নিতেও এই হামলা পরিচালিত হচ্ছে।
ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সিরিক এলাকায় হামলা চালিয়েছে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, ইরানের সেনাবাহিনী কুয়েতের আল-আদিরি ক্যাম্প এবং আলি সালেম এয়ার বেসে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এই দুটি ঘাঁটিতে মার্কিন সামরিক সম্পদ এবং সরঞ্জামগুলোকেই লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র কেন্দ্রীয় কমান্ড বলছে, শুক্রবার দুই মার্কিন সৈন্যের মৃত্যু হয়েছে এবং আরেকজন নিখোঁজ রয়েছেন। সংঘাতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ১৬জন মার্কিন সৈন্যের মৃত্যু হয়েছে এবং ৪২০জন আহত হয়েছেন। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এক্স-এ জানিয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগ আমাদের সংকল্পকে আরও শক্তিশালী করেছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ মোজতবা খামেনেই এক বিবৃতিতে বলেন, ট্রাম্পের স্বাক্ষর সম্পূর্ণ মূল্যহীন এবং বিশ্বাসযোগ্যতা বিহীন। এই বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। সংঘাতের ফলে শক্তি সরবরাহে ব্যাপক বাধার সৃষ্টি হয়েছে এবং পারস্য উপসাগরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘাত বেড়েছে।