
পর্তুগালের পার্লামেন্টে জনসমক্ষে মুখ ঢেকে রাখার পোশাক নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব সংবলিত বিলটি চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। শুক্রবারের ভোটে ক্ষমতাসীন মধ্য-ডানপন্থী জোট, ডানপন্থী ও কট্টর ডানপন্থী দলগুলোর সমর্থনে বিলটি পাস হয়েছে। এখন এটি আইনে পরিণত হওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট মার্সেলো রেবেলো ডি সৌসার স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে।
প্রস্তাবিত আইনে জনসমক্ষে এমন পোশাক বা আবরণ ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে যা মুখ পুরোপুরি ঢেকে দেয় এবং পরিচয় শনাক্তে বাধা সৃষ্টি করে। এর ফলে বোরকা ও নিকাব কার্যত নিষিদ্ধ হবে। তবে স্বাস্থ্যগত প্রয়োজন, পেশাগত নিরাপত্তা, ধর্মীয় উপাসনালয়, কূটনৈতিক স্থাপনা এবং বিমান ভ্রমণসহ কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে।
আইন ভঙ্গ করলে ২০০ থেকে ৪,০০০ ইউরো পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। কাউকে জোরপূর্বক মুখ ঢেকে রাখতে বাধ্য করলে আরও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মূলত কট্টর ডানপন্থী দল শেগার প্রস্তাবনা থেকে এই বিলের সূত্রপাত হলেও ক্ষমতাসীন সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (পিএসডি) পরবর্তীতে সংশোধনী এনে ধর্মীয় পোশাককে সরাসরি লক্ষ্য না করে জননিরাপত্তা ও পরিচয় শনাক্তকরণের প্রয়োজনীয়তাকে মূল যুক্তি হিসেবে তুলে ধরে।
বিলটি নিয়ে পর্তুগালের মুসলিম সম্প্রদায় ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বিলটিকে ধর্মীয় স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত পোশাকের স্বাধীনতার জন্য হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেছে। সংস্থাটি প্রেসিডেন্টকে বিলে স্বাক্ষর না করে সাংবিধানিক আদালতে পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছে।
প্রেসিডেন্টের অনুমোদন পেলে পর্তুগাল ফ্রান্স, বেলজিয়াম, অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক ও সুইজারল্যান্ডের মতো ইউরোপীয় দেশগুলোর কাতারে যোগ দেবে, যেখানে জনসমক্ষে সম্পূর্ণ মুখ ঢেকে রাখার ওপর বিভিন্ন মাত্রার নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।