
মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। স্নায়ুযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে এই প্রথম রাশিয়া ও চীন একযোগে যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের সামরিক তৎপরতা বন্ধ করার জন্য প্রকাশ্যে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু কূটনৈতিক বার্তা নয়, বরং একটি বড় ধরনের ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের ইঙ্গিত বহন করছে।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে একটি বড় সামরিক হামলা চালায়। এই হামলায় ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
তবে প্রত্যাশার বিপরীতে দ্রুত পাল্টা জবাব দেয় ইরান। হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তারা হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয় এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ওপর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, ইরানের এই পাল্টা আক্রমণে রাশিয়া ও চীনের প্রযুক্তিগত সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। রাশিয়ার স্যাটেলাইট সিস্টেমের মাধ্যমে যুদ্ধক্ষেত্রের তথ্য সরবরাহ এবং চীনের উন্নত রাডার ও নেভিগেশন প্রযুক্তি ইরানকে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, এই সংঘাতের অর্থনৈতিক দিকও বিশ্বজুড়ে প্রভাব ফেলছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১১০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া-চীন জোট গত এক দশকে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার বিকল্প কাঠামো তৈরি করেছে, যার ফলে ইরানকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করা এখন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে এটি আরও বড় আঞ্চলিক কিংবা বৈশ্বিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।