
নিজস্ব প্রতিবেদক, ফ্যালকন নিউজ২৪
সারাদেশে হঠাৎ শুরু হওয়া কালবৈশাখী ঝড়ের সাথে বজ্রপাতে ছয়টি জেলায় অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আজ রোববার বিভিন্ন সময়ে বৃষ্টির সময় খোলা মাঠে কাজ করতে গিয়ে কিংবা বাড়ির আঙিনায় থাকাকালীন বজ্রপাতের কবলে পড়ে তারা প্রাণ হারান।
সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে গাইবান্ধায়। জেলাটির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক যাদব সরকার জানিয়েছেন, সেখানে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে চারজন মারা গেছেন। অন্যদিকে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ ও তাড়াশ উপজেলায় দুইজন মারা যাওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক গণপতি রায়। এছাড়া জামালপুরে দুইজন এবং নাটোর, বগুড়া ও পঞ্চগড়ে একজন করে মোট ১১ জন মারা গেছেন বলে স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
গত কয়েকদিন ধরে সারাদেশে তীব্র তাপপ্রবাহের পর আজ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে স্বস্তির বৃষ্টির দেখা মেলে। তবে এই বৃষ্টির সাথে আসা প্রচণ্ড বজ্রপাত কাল হয়ে দাঁড়ায় সাধারণ মানুষের জন্য। মৃতদের অধিকাংশই কৃষক যারা সে সময় মাঠে কাজ করছিলেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশে এখন বজ্রপাতের তীব্রতা ও সংখ্যা দুই-ই বেড়েছে। বিশেষ করে এপ্রিল ও মে মাসে খোলা আকাশের নিচে থাকা মানুষের জন্য এটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বজ্রপাত এখন বাংলাদেশে অন্যতম প্রধান প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। প্রতি বছর শয়ে শয়ে মানুষ এতে প্রাণ হারাচ্ছেন, যার বড় অংশই হলো গ্রামীণ জনপদের শ্রমজীবী মানুষ। আজকের এই মর্মান্তিক ঘটনা কৃষি খাতেও এক ধরণের ভীতি তৈরি করবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত বজ্রপাত নিরোধক দণ্ড স্থাপন এবং মানুষকে সচেতন করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে কালবৈশাখীর সময় খোলা মাঠ থেকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার কোনো বিকল্প নেই।
সারসংক্ষেপ: গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ ও জামালপুরসহ ছয় জেলায় বজ্রপাতে মোট ১১ জন মারা গেছেন যা সারাদেশে শোকের ছায়া ফেলেছে।