রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে নতুন মোড়ের ইঙ্গিত মিলছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান “ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার” বলছে, এপ্রিল মাসে ইউক্রেন হয়তো রাশিয়ার কাছ থেকে বেশি এলাকা পুনর্দখল করেছে, যতটা হারিয়েছে তার চেয়ে।
প্রতিষ্ঠানটির বিশ্লেষণে বলা হয়, এপ্রিলজুড়ে রুশ বাহিনী প্রায় ১১৬ বর্গকিলোমিটার এলাকায় কার্যত নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। একই সঙ্গে গত ১৮ মাসে রাশিয়ার অগ্রগতির গতি অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ কমে গেছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
ইউক্রেনের সেনাপ্রধান ওলেক্সান্দার সিরস্কি জানিয়েছেন, পূর্বাঞ্চলের দোনেৎস্ক অঞ্চলে রুশ হামলা এপ্রিল মাসে আরও বেড়েছে। তবে ইউক্রেনের পাল্টা প্রতিরোধও জোরদার হয়েছে।
ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে ৩৫ হাজার ২০৩ জন রুশ সেনা নিহত বা গুরুতর আহত হয়েছেন। দেশটির কর্মকর্তারা দাবি করছেন, রাশিয়ার ক্ষয়ক্ষতি এখন তাদের নতুন সেনা নিয়োগের চেয়েও বেশি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
একই সময়ে ইউক্রেন রাশিয়ার তেল শোধনাগার, জ্বালানি স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটিতে ধারাবাহিক ড্রোন হামলা চালিয়েছে। কৃষ্ণসাগর থেকে শুরু করে রাশিয়ার ভেতরের বিভিন্ন অঞ্চলেও এসব হামলার খবর পাওয়া গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন এখন শুধু সম্মুখযুদ্ধ নয়, রাশিয়ার অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতেও চাপ তৈরি করার কৌশল নিয়েছে। এতে যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব আরও বাড়তে পারে।
অন্যদিকে, রাশিয়া বলছে তাদের তেল আয় এখনো শক্ত অবস্থানে রয়েছে এবং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি কার্যকর হয়নি।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘ হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের দাম আরও অস্থির হতে পারে, যার প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও পড়বে।
সব মিলিয়ে, যুদ্ধের সামরিক ও অর্থনৈতিক দুই দিকেই নতুন এক পালাবদলের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে।