
জনস্বাস্থ্য ডেস্ক | ফ্যালকন নিউজ ২৪ ৪ এপ্রিল ২০২৬
ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে ভারতে কনডমের দাম বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একাধিক শিল্প ক্ষেত্রে এই যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, যার মধ্যে লাইফস্টাইলের সাথে যুক্ত কনডম শিল্প অন্যতম। কাঁচামাল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় এবং লজিস্টিকস সমস্যার কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি: কনডম উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত পেট্রো-কেমিক্যাল পণ্য, অ্যামোনিয়া ও সিলিকন অয়েলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দাম বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে। কনডম উৎপাদন শিল্পের সূত্র অনুযায়ী, অ্যামোনিয়ার দাম ৪০-৫০% বাড়তে পারে, যার ফলে সিলিকন তেলের দামও বাড়বে। ল্যাটেক্সকে স্থিতিশীল করতে অ্যামোনিয়া এবং লুব্রিক্যান্ট হিসেবে সিলিকন অয়েল ব্যবহার করা হয়। এই কাঁচামালগুলোর দাম বাড়ার কারণে খুচরো বিক্রিতেও প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় উদ্বেগ: জনসংখ্যা, পরিবার পরিকল্পনা এবং এইডস নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের মতো জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার সাথে যুক্ত ব্যক্তিরা এই পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ‘পপুলেশন ফাউন্ডেশন অব ইন্ডিয়ার’ নির্বাহী পরিচালক পুনম মুতরেজা জানিয়েছেন, গর্ভনিরোধক মানুষের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা মজবুত করা অত্যন্ত জরুরি। কনডমের ঘাটতি বা দাম বাড়ার কারণে কিশোরী অবস্থায় গর্ভবতী হওয়ার ঘটনা বেড়ে যেতে পারে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সুফল পেতে হলে এই সমস্যা দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন।
উৎপাদনে বাধা: এইচএলএল লাইফ কেয়ার লিমিটেডের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, পিভিসি ফয়েল, অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল, পলি কেমিক্যাল এবং প্যাকেজিং উপকরণের মতো মূল উপাদানের দাম ওঠানামার কারণে উৎপাদন এবং অর্ডার অনুযায়ী পণ্য পৌঁছানো প্রভাবিত হতে পারে। কেরালা ভিত্তিক এই রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা প্রতি বছর প্রায় ২০০ কোটি কনডম তৈরি করে, যা দেশে তৈরি মোট কনডমের প্রায় ৫০ শতাংশ। যুদ্ধের কারণে লজিস্টিকস সমস্যা এবং জাহাজের কন্টেনারের বৈশ্বিক সংকটের ফলে বিদেশে পণ্য পাঠাতে দেরি হচ্ছে। সমুদ্র পথে পরিবহনে বেশি সময় লাগার কারণে এই শিল্প ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।