
বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্রেপ্তার হওয়া বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
রোববার জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের জন্য ইন্টারপোলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ শুরু করে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি)।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্যমতে, ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল ইন্টারপোল বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডাইরেক্টরেট জেনারেল অব ফেডারেল পুলিশ বাংলাদেশ সরকারকে ইমেইলের মাধ্যমে নিশ্চিত করে যে, বেনজীর আহমেদকে দেশটির পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে এবং তিনি বর্তমানে সেখানে আটক রয়েছেন।
তিনি আরও জানান, ইউএই আইনের বিধান অনুযায়ী গ্রেপ্তারের ৩০ দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন পাঠাতে হবে। এ লক্ষ্যে এনসিবি ঢাকা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুতের কাজ করছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা রয়েছে। তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া সফল হলে এটি দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক আইনগত সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হতে পারে। একই সঙ্গে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার বার্তাও আরও শক্তিশালী হবে।
সব মিলিয়ে, দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া এখন সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি ও কূটনৈতিক অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে।