
হরমুজ প্রণালিতে একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনার জেরে ইরানে সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের ‘অন্যায্য আগ্রাসনের’ জবাব হিসেবেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেলে শুরু হওয়া এই হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের প্রতিরক্ষা ও রাডার স্থাপনা। পারস্য উপসাগর উপকূলবর্তী বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।
ঘটনার সূত্রপাত হয় হরমুজ প্রণালিতে একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার মাধ্যমে। মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, ইরানের একটি ড্রোন এই হামলা চালায়। যদিও ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে এর দায় স্বীকার করেনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে বলেন, হেলিকপ্টারে থাকা দুই পাইলট নিরাপদে উদ্ধার হয়েছেন, তবে এই ঘটনার জবাব দেওয়া প্রয়োজন ছিল। পরবর্তীতে মার্কিন বাহিনী ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কোনো হামলা বা হুমকির জবাব ছাড়া দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে বিদেশি সামরিক বাহিনীকে অঞ্চল ত্যাগ করার আহ্বানও জানান তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হওয়ায় বিশ্ববাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
বাংলাদেশে প্রভাব
হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে আন্তর্জাতিক তেলের দাম বাড়তে পারে। বাংলাদেশ জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় জ্বালানি ব্যয়, পরিবহন খরচ এবং সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির ওপর এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সংক্ষেপে, একটি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।