ইরানের পক্ষ থেকে যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব এলেও সেটিকে “পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম জানিয়েছে, পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো তেহরানের প্রস্তাবে সব ধরনের যুদ্ধ বন্ধ, মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে আর হামলা না চালানোর নিশ্চয়তা চাওয়া হয়েছিল।
তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তিনি ইরানের এই জবাব পছন্দ করেননি। এর আগে তিনি সতর্ক করেছিলেন, সমঝোতা না হলে ইরানের ওপর আরও তীব্র হামলা চালানো হতে পারে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu বলেছেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ধ্বংস না করা পর্যন্ত যুদ্ধ শেষ হয়েছে বলা যাবে না। তার ভাষায়, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো এখনো ভেঙে ফেলা প্রয়োজন।
এদিকে হরমুজ প্রণালি ঘিরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। ইরান এখনো গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে, যার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে দেশটির বন্দরগুলোতে অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে।
যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে নতুন নিরাপত্তা মিশনের পরিকল্পনা করছে। তবে ইরান সতর্ক করে বলেছে, বিদেশি সামরিক উপস্থিতি বাড়লে তাৎক্ষণিক জবাব দেওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি এখন একদিকে কূটনৈতিক আলোচনার দিকে এগোলেও অন্যদিকে সামরিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে।
হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা বাড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে, যার ফলে বাংলাদেশের জ্বালানি ব্যয় ও আমদানি খরচ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সব মিলিয়ে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।