
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | Falconnews24.com
ইরানের ইতিহাসের এক বিষাদময় অধ্যায় রচিত হলো তেহরানে। গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি শাহাদাত বরণ করার ঠিক দুই দিন পর মারা গেলেন তার জীবনসঙ্গিনী মনসুরেহ খোজাস্তে বাঘেরজাদেহ। সোমবার (২ মার্চ) তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে নিশ্চিত করেছে আল জাজিরা।
একই সাথে ঝরল পুরো পরিবারের প্রাণ: বর্বরোচিত ওই হামলায় কেবল খামেনিই নন, তার পরিবারের আরও অনেক সদস্য না ফেরার দেশে চলে গেছেন। ইরানি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ওই একই হামলায় খামেনির মেয়ে, নাতি, পুত্রবধূ এবং জামাতাও প্রাণ হারিয়েছেন। আহত অবস্থায় হাসপাতালে লড়াই করছিলেন মনসুরেহ, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনিও প্রিয়জনদের কাছেই ফিরে গেলেন।
ছয় দশকের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা: ১৯৬৫ সালে খামেনির সঙ্গে দাম্পত্য জীবন শুরু করেছিলেন মনসুরেহ। দীর্ঘ ৬০ বছরের পথচলায় তিনি ছিলেন খামেনির সবচেয়ে বড় শক্তির উৎস। ২০১১ সালের এক দুর্লভ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, “আমার সবচেয়ে বড় কাজ ছিল ঘরের ভেতরটা শান্ত রাখা, যাতে তিনি (খামেনি) নিশ্চিন্তে দেশের কাজ করতে পারেন”। জেলের ভেতর স্বামীকে সাহস জোগানো আর চিরকাল পর্দার আড়ালে থেকে পরিবারকে আগলে রাখাই ছিল তার জীবনের মূল ব্রত।
শান্তিময় এক বিদায়ে শোকের ছায়া: ৭৯ বছর বয়সী এই নিভৃতচারী নারীর মৃত্যুতে পুরো ইরান জুড়ে শোকের ছায়া আরও গভীর হয়েছে। যুদ্ধের ভয়াবহতা কেবল রাষ্ট্রকে নয়, একটি সাজানো পরিবারকেও কীভাবে তছনছ করে দেয়—খামেনি পরিবারের এই পরিণতি যেন তারই এক করুণ উদাহরণ।