
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | Falconnews24.com
ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের আকস্মিক হামলার পর এবার বৈশ্বিক এই যুদ্ধে নতুন মাত্রা যোগ করেছে ইউরোপের তিন শক্তিশালী দেশ— যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি。 গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যৌথ অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও শীর্ষ সামরিক কমান্ডারদের মৃত্যুর পর দেশ তিনটি ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে。
ইউরোপীয় দেশগুলোর অবস্থান: যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ঘোষণা করেছেন যে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থায় হামলা চালানোর জন্য তারা তাদের ঘাঁটি ব্যবহার করতে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুমতি দিয়েছেন。 অন্যদিকে, ফরাসি সরকার আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যুতে প্রকাশ্যে সন্তোষ প্রকাশ করেছে。 সবশেষ জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, তারা তাদের নিজেদের এবং উপসাগরীয় মিত্রদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনে ইরানের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত。
যৌথ বিবৃতিতে কঠোর বার্তা: দেশ তিনটির নেতারা বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের নির্বিচারে এবং অসামঞ্জস্যপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তারা হতবাক。 তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন উৎক্ষেপণের ক্ষমতা ধ্বংস করার জন্য প্রয়োজনীয় ও আনুপাতিক সব ধরনের প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে。
নেপথ্যে সৌদি ও ইসরায়েলি চাপ: ওয়াশিংটন পোস্টের এক চাঞ্চল্যকর রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মূলত সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং ইসরায়েলের চাপেই ইরানে এই হামলা শুরু করেছেন。 রিপোর্ট অনুযায়ী, যুবরাজ প্রকাশ্যে বিরোধিতা করলেও গোপনে এই হামলার জন্য ট্রাম্পকে চাপ দিয়ে আসছিলেন。
ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত অর্থাৎ অন্তত আগামী পাঁচ সপ্তাহ পর্যন্ত ইরানে এই অভিযান অব্যাহত থাকতে পারে。 বর্তমানে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে একটি বড় আকারের বিশ্বযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে。