
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, গুম বা জোরপূর্বক গায়েব করে দেওয়া বিশ্বের নিকৃষ্টতম অপরাধগুলোর মধ্যে অন্যতম। এটি মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন হিসাবে বিবেচিত হয়। আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি জানান, বর্তমান সরকার প্রতিটি গুমের ঘটনা তদন্ত করে বিচার কার্যক্রম শুরু করেছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধ করতে পৃথক আইনি কাঠামো প্রণয়ন করছে।
প্রধানমন্ত্রী তার ফেসবুক পেজে প্রকাশিত বাণীতে বলেন, তিনি বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব গুম হওয়া ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সহানুভূতি জানান। গুমকে তিনি একটি বৈশ্বিক সমস্যা এবং স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থার ফল হিসাবে আখ্যায়িত করেন। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কর্তৃক সরকারবিরোধী আন্দোলন বা ভিন্নমতের রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে এই অমানবিক পদ্ধতি ব্যবহারের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী সরকার জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার দমন করতে গুম ও অপহরণের পথ বেছে নিয়েছিল। গোপন বন্দিশালা বা ‘আয়নাঘরে’ মাসের পর মাস, বছরের পর বছর বিনাবিচারে আটক রাখা হতো মানুষকে। দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থার হিসাব উদ্ধৃত করে তিনি জানান, সাত শতাধিক মানুষকে গুম করা হয়েছে।
বর্তমান সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ ও ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবার যে মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যায় তা তুলে ধরে তিনি বলেন, এটি শুধু একজন ব্যক্তির হারিয়ে যাওয়া নয়, পুরো একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করার শামিল।
২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিছু মানুষ ফিরে এলেও ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমের মতো অসংখ্য ব্যক্তির আজও কোনো খোঁজ মেলেনি। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রোম সনদের উল্লেখ করে তিনি গুমকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসাবে সংজ্ঞায়িত করেন এবং এর দৃষ্টান্তমূলক বিচারের আহ্বান জানান।