
নিউজ ডেস্ক | ফ্যালকন নিউজ ২৪
ইরানকে বাগে আনতে গিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন এক ভয়াবহ কৌশলগত বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়েছেন। যে তিনটি লক্ষ্য নিয়ে তিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর উসকানিতে যুদ্ধে জড়িয়েছিলেন—শাসন পরিবর্তন, পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস এবং ইরানকে চুক্তিতে বাধ্য করা—তার একটিও সফল হয়নি। বরং যুদ্ধের ময়দানে নয়, কূটনৈতিক ও কৌশলগত চালে ইরান এখন সুবিধাজনক অবস্থানে।
ব্যর্থতার খতিয়ান: গোল খেলো আমেরিকা ট্রাম্প চেয়েছিলেন ইরানের কট্টরপন্থী শাসনব্যবস্থা গুঁড়িয়ে দিতে। হামলায় শীর্ষ নেতাদের প্রাণহানি ঘটলেও মোজতবা খামেনির নেতৃত্বে ইরান এখন আরও বেশি সামরিক নির্ভর ও পশ্চিমা বিরোধী হয়ে উঠেছে। অর্থাৎ শাসন বদলায়নি, বরং আরও কঠোর হয়েছে। দ্বিতীয়ত, হরমুজ প্রণালি এখন ইরানের তুরুপের তাস। বিশ্বের পাঁচ ভাগের এক ভাগ জ্বালানি সরবরাহ হয় এই পথ দিয়ে। ইরান এটি আটকে দিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিকে এখন শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় ফেলে দিয়েছে। ফলে তেলের বাজারে আগুন লেগেছে।
সবচেয়ে বড় ভাঁওতাবাজি ধরা পড়েছে পারমাণবিক ইস্যুতে। ট্রাম্প মাসজুড়ে দাবি করেছেন তিনি ইরানের সব পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস করেছেন। কিন্তু ২০২৬-এর ফেব্রুয়ারিতে এসে তিনি নিজেই স্বীকার করছেন যে ইরান পারমাণবিক বোমার দোরগোড়ায়। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারগুলো ধ্বংস করার সক্ষমতা আমেরিকার সাধারণ বোমার নেই।
বাংলাদেশে প্রভাব এই যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব পড়বে বাংলাদেশের জ্বালানি ও আমদানি খাতে। হরমুজ প্রণালি সংকটের কারণে তেলের দাম বাড়লে বাংলাদেশে পরিবহন ও সেচ খরচ বাড়বে, যা সরাসরি নিত্যপণ্যের বাজারে আঘাত হানবে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বাড়লে আমাদের প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের কর্মসংস্থান নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।
সারসংক্ষেপ: ট্রাম্পের ভুল রণকৌশল ইরানকে দমানোর বদলে বিশ্বজুড়ে এক দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক ও সামরিক অস্থিরতার জন্ম দিয়েছে।
Falcon News24-এর সাথেই থাকুন, সত্য জানুন সবার আগে।