
বগুড়া থেকে বিশেষ প্রতিবেদন: দীর্ঘ ২০ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখে নিজ জেলা বগুড়ায় পা রাখলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর এটাই তার প্রথম আনুষ্ঠানিক জেলা সফর। এদিন সকালে হেলিকপ্টারযোগে বগুড়ায় পৌঁছালে তাকে এক নজর দেখতে লাখো মানুষের ঢল নামে। প্রধানমন্ত্রী সরাসরি চলে যান তার পৈতৃক নিবাস ‘জিয়াবাড়ি’তে, যেখানে আবেগঘন পরিবেশে তিনি সময় অতিবাহিত করেন।
বিকেলে বগুড়ার আলতাফুন্নেসা খেলার মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। জনসভা থেকে তিনি ১৫০ বছরের পুরোনো বগুড়া পৌরসভাকে দেশের ১৩তম সিটি কর্পোরেশন হিসেবে উন্নীত করার ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন। এই ঘোষণা আসার পরপরই পুরো জেলায় আনন্দের জোয়ার বয়ে যায়।
তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতির এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দীর্ঘ শাসনামলের অবসান ঘটে এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেন। পরবর্তীতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সফলভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ২০২৬ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে পুনরায় সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ নির্বাসন ও আইনি জটিলতা কাটিয়ে তারেক রহমানের ক্ষমতায় ফেরা কেবল রাজনৈতিকভাবে নয়, বরং সাংবিধানিকভাবেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের সমসাময়িক সময়েই জাতীয় পর্যায়ে বড় কিছু কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। এদিনই ঢাকায় কানাডিয়ান প্রতিনিধিদের সাথে সরকারের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বাংলাদেশে ১০ হাজার মেগাওয়াট সোলার বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়।
একইসাথে ভারতের নতুন হাই কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন দেশটির সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দিনেশ ত্রিবেদী, যা দুই দেশের সম্পর্কের নতুন সমীকরণ নির্দেশ করছে। এছাড়া, ২০২৬ সালের শেষের দিকে এলডিসি (LDC) থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে নতুন বাণিজ্য সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।
বগুড়ায় প্রধানমন্ত্রীর এই সফর কেবল আবেগপূর্ণ পুনঃমিলন নয়, বরং এটি দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনে নতুন সরকারের সংকল্পের বহিঃপ্রকাশ।