
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি ঘোষণা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের তুমুল বিক্ষোভ ও সংসদে হট্টগোলের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী মোদি জড়িতদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে দ্রুত বিচার আদালত গঠনের ঘোষণা দেন। একই সময়ে রাহুল গান্ধী মোদির বিরুদ্ধে শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করার অভিযোগ তোলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ‘আমাদের তরুণ প্রজন্মের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছুই হতে পারে না।’ তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মোদি প্রতিশ্রুতি দেন যে তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলবে তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।
অন্যদিকে, রাহুল গান্ধী পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে বলেন যে প্রধানমন্ত্রী নিজেই তরুণদের ভবিষ্যতের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছেন। তিনি শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা এবং শিক্ষার্থীদের ওপর আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার তিন দফা দাবি তোলেন। রাহুল গান্ধী দাবি করেন যে গত ১০ বছরে ১৫০টিরও বেশি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটলেও কোনো বিচার বা সাজা হয়নি।
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিরোধী দলগুলো এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) রাজপথে ও সংসদে অনড় অবস্থান নিয়েছে। বিরোধী দলগুলোর আন্দোলনের মুখে সরকার সংসদে আলোচনা করতে রাজি হলেও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের শর্ত দিয়ে সংসদ স্তব্ধ করে রাখার জন্য বিরোধীদের দায়ী করেছে ক্ষমতাসীন দল।