
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে নৈতিক স্খলনের অভিযোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, তার এমপি পদ থাকবে কিনা। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য যদি নিজ দল থেকে পদত্যাগ করেন বা দলের বিপক্ষে ভোট দেন, তাহলে তার আসন শূন্য হবে। কিন্তু দল থেকে বহিষ্কারের ক্ষেত্রে এই বিধান প্রযোজ্য কিনা তা নিয়ে আইনি বিতর্ক রয়েছে।
২০১৯ সালে বিএনপির কয়েকজন এমপি দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে শপথ নেওয়ায় অনুরূপ প্রশ্ন উঠেছিল। তখনকার আইনমন্ত্রী বলেছিলেন, দল থেকে বহিষ্কার করলে এমপি পদ যায় না। জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘জনগণ তাকে দলের মনোনয়নে ভোট দিয়েছে। দল যখন তাকে বহিষ্কার করে, তখন জনগণের ভোটের ম্যান্ডেট অকার্যকর হয়ে যায়। তাই তার আসন শূন্য হওয়া উচিত।’
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও আইনজীবী শিশির মনির তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘সংবিধানে পদত্যাগের কথা আছে, বহিষ্কারের কথা নেই। নৈতিক স্খলনের কারণে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আমার মতে তিনি সংসদ সদস্য থাকতে পারবেন না।’
জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কারের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে জানানো হবে। এক তরুণীর সঙ্গে তার ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেছেন, তাকে জিম্মি করে টাকা আদায়ের পর উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই ভিডিও ছড়ানো হয়েছে।