
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ফ্যালকন নিউজ ২৪ ১৬ মার্চ ২০২৬
ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের ইতিহাসে এক নতুন এবং বিধ্বংসী অধ্যায় যুক্ত হলো। রোববার (১৫ই মার্চ) ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) প্রথমবারের মতো ইসরায়েলের গভীরে তাদের কৌশলগত সলিড-ফুয়েল ‘সেজিল’ (Sejjil) ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে। ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’-এর আওতায় এটি ছিল ৫৪তম দফার প্রতিশোধমূলক হামলা।
হামলার ভয়াবহতা ও লক্ষ্যবস্তু: আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, রবিবারের এই বিশাল হামলায় দুই টন ওজনের শক্তিশালী ওয়ারহেডবাহী ‘খুররামশাহর’ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ‘খাইবার-শেখান’, ‘কদর’ এবং ‘ইমাদ’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। তবে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল ‘সেজিল’ ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার। এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো দিয়ে ইসরায়েলের বিমান অভিযান পরিচালনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কেন্দ্রগুলোকে নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েলের সামরিক ও প্রতিরক্ষা শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং দখলকৃত অঞ্চলের গভীরে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনাদের জমায়েত লক্ষ্য করে এই হামলা সফলভাবে চালানো হয়েছে।
যুদ্ধের প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য যে, গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনি এবং বেশ কয়েকজন সিনিয়র সামরিক কমান্ডারকে হত্যার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে। সেই থেকে ইরান ক্রমাগত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে এই আগ্রাসনের প্রতিশোধ নিয়ে আসছে। রবিবারের এই ‘সেজিল’ ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য এক নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।