
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | Falconnews24.com
মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে ইরানের অনড় অবস্থান ও দুঃসাহসী পাল্টা লড়াই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘দ্রুত বিজয়ের’ পরিকল্পনাকে এক বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার পরও তেহরান আলোচনার টেবিলে ফেরার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে।
অসংলগ্ন বার্তা ও ট্রাম্পের হতাশা: বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই অনমনীয় মনোভাবের কারণে ট্রাম্পের দেওয়া বার্তাগুলোতে অসংলগ্নতা দেখা যাচ্ছে। তিনি কখনও দাবি করছেন যুদ্ধ কয়েক দিনে শেষ হবে, আবার কখনও পাঁচ সপ্তাহ বা তার বেশি সময়ের কথা বলছেন। একটি দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত চালানোর মতো মানসিক ধৈর্য ট্রাম্পের না থাকলেও, ইরান বর্তমানে কেবল সামরিক নয়, বরং বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতেও হামলা চালিয়ে ওয়াশিংটনের ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছে।
ইরানের কৌশল ও প্রতিরোধ: ইরানি নেতাদের স্পষ্ট বার্তা হলো— আলোচনা শুরুর আগে তাদের একটি শক্তিশালী ‘প্রতিরোধ’ গড়ে তুলতে হবে। তেহরান বিশ্বাস করে যে, এখনই চুক্তি করলে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতে হামলার নতুন অজুহাত খুঁজবে। তাই তারা মার্কিন সামরিক লক্ষ্যের পাশাপাশি উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপরও আঘাত হানার হুমকি দিচ্ছে।
দীর্ঘ যুদ্ধের ঝুঁকি: ট্রাম্প এর আগে ইয়েমেনের হুথিদের সাথে দ্রুত চুক্তিতে পৌঁছেছিলেন, কিন্তু ইরানের পরিস্থিতি ভিন্ন। সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার অর্থ হলো— আরও বেশি মার্কিন হতাহত, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা এবং আঞ্চলিক মিত্রদের রক্ষা করতে ব্যর্থ হওয়া। যদিও ট্রাম্প খামেনির হত্যা ও ধ্বংসলীলার ছবিগুলোকে ‘বিজয়’ হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন, কিন্তু এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।