
নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর | Falconnews24.com
রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেনের প্রথম সফর ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে হারাগাছ এলাকা। নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানিয়েছেন, তার সফরে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে এর দায়ভার বিএনপি এবং দলটির নেতা এমদাদুল হক ভরসাকে নিতে হবে।
ফেসবুকে বিস্ফোরক স্ট্যাটাস: রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ভোররাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে এক দীর্ঘ পোস্টে আখতার হোসেন নির্বাচনে কারচুপি চেষ্টার অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি লিখেন, “আমার হারাগাছে আসা নিয়ে যদি কিছু ঘটে তার দায় ভরসা এবং বিএনপির হাইকমান্ডকে নিতে হবে।” তার দাবি, নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকে ‘ভরসা বাহিনী’ এলাকায় তাণ্ডব চালাচ্ছে এবং এনসিপি কর্মীদের বাড়িঘর ভাঙচুর করছে।
নির্বাচনী কারচুপির অভিযোগ: আখতার হোসেনের অভিযোগ, নির্বাচনের দিন হারাগাছের বিভিন্ন কেন্দ্রে তার কর্মীদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছিল। এমনকি ভোট গণনার সময় ১৫-২০ হাজার বাড়তি ভোট ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে দেখানোর পরিকল্পনাও করা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, “ভরসার কূটচাল বন্ধ করতে পারায় শাপলা কলি (এনসিপির প্রতীক) জয়ী হয়েছে, আর সেই ক্ষোভ থেকেই এখন সহিংসতা ছড়ানো হচ্ছে।”
এমপির সফর ও স্থানীয় বিএনপির অবস্থান: হারাগাছে নিপীড়িত শ্রমিকদের পাশে দাঁড়াতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি পরিদর্শনে আজ সেখানে যাওয়ার কথা রয়েছে আখতার হোসেনের। অন্যদিকে, স্থানীয় বিএনপি তার সফরের প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। এর আগে বিএনপির প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেন এবং ভোট পুনর্গণনার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
অস্থিতিশীল পরিস্থিতির আশঙ্কা: নতুন সরকারের অধীনে একজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে স্থানীয় বিএনপির এমন অনড় অবস্থানে ওই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সাধারণ মানুষ। এ বিষয়ে জানতে এমদাদুল হক ভরসার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আখতার হোসেন ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন, যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এমদাদুল হক ভরসা পান ১ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৪ ভোট।