
নিজস্ব প্রতিবেদক | Falconnews24.com
বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের শাসনামলে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া ‘মব ভায়োলেন্স’ বা গণপিটুনির আতঙ্ক এখন খোদ সেই সরকারের সাবেক উপদেষ্টাদের তাড়া করছে। জনরোষের কবলে পড়ার আশঙ্কায় তারা বর্তমানে অবস্থান করা নিরাপদ সরকারি বাসভবনগুলো ছাড়তে অনীহা প্রকাশ করছেন। তবে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সাফ জানিয়ে দিয়েছে, বর্তমান সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের বরাদ্দের জন্য চলতি ফেব্রুয়ারির মধ্যেই এসব বাসা খালি করতে হবে।
কেন এই আতঙ্ক? মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৭ মাসে দেশে মব ভায়োলেন্সে ২৫৯ জন নিহত হয়েছেন। সাবেক এক উপদেষ্টা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ধানমন্ডি ৩২ নম্বর ভাঙচুর, মাজার ভাঙচুর, সমন্বয়কদের চাঁদাবাজি এবং কিছু উপদেষ্টার দুর্নীতির কারণে জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ রয়েছে। এই পরিস্থিতির দায় সব উপদেষ্টার ওপর না থাকলেও, নিরাপত্তাহীনতার কারণে তারা এখন সাধারণ জীবনে ফিরতে ভয় পাচ্ছেন।
মন্ত্রণালয়ের কড়া বার্তা: আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, সাবেক উপদেষ্টাদের জন্য কোনো পেনশন বা আজীবন আবাসন সুবিধা নেই। বর্তমান সরকারের ৪৯ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এবং উপদেষ্টা মিলিয়ে প্রায় ৬০ জন পদধারীর আবাসনের ব্যবস্থা করতে দ্রুত এই বাংলো ও অ্যাপার্টমেন্টগুলো প্রয়োজন। ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত তাদের থেকে কোনো ভাড়া নেওয়া হবে না, তবে মার্চ বা এপ্রিল মাসে কেউ থাকতে চাইলে তাকে সরকার নির্ধারিত মোটা অঙ্কের ভাড়া গুনতে হবে।
প্রধান উপদেষ্টার অবস্থান: জানা গেছে, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস চলতি মাসের মধ্যেই রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’ ছেড়ে দেবেন। তিনি সেখান থেকে তার গুলশানের ব্যক্তিগত বাসভবনে ফিরে যাবেন। যমুনাকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাময়িক বাসভবন হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
বাসা বরাদ্দের দৌড়ঝাঁপ: ইতোমধ্যেই বর্তমান সরকারের ২১ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী সরকারি বাসার জন্য আবেদন করেছেন। মিন্টো রোড ও হেয়ার রোডে মাত্র ২৪টি বাংলো ও ১২টি অ্যাপার্টমেন্ট খালি হওয়ার অপেক্ষায় আছে। গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন এসব আবেদন যাচাই-বাছাই করে দ্রুত বরাদ্দ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।
মন্ত্রণালয় আশা করছে, ফেব্রুয়ারির শেষ নাগাদ সাবেক উপদেষ্টারা বাসা খালি করলে সংস্কার কাজ শেষে মার্চের মধ্যেই নতুন মন্ত্রীরা সেখানে উঠতে পারবেন।