
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | Falconnews24.com
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গত আট দশকের ইতিহাসে এই প্রথম মার্কিন নৌবাহিনীর কোনো সাবমেরিন থেকে ছোঁড়া টর্পেডোর আ-ঘাতে প্রতিপক্ষের একটি শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বুধবার শ্রীলঙ্কার কাছাকাছি ভারত মহাসাগরে মার্কিন এই বিশেষ হামলায় ইরানের অন্যতম যুদ্ধজাহাজ ‘আইআরআইএস ডেনা’ (IRIS Dena) পুরোপুরি সাগরে নিমজ্জিত হয়েছে।
হামলার ভয়াবহ দৃশ্য: মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের (পেন্টাগন) প্রকাশিত এক তথ্যে জানা গেছে, একটি শক্তিশালী টর্পেডো ইরানি যুদ্ধজাহাজটির পেছনের অংশে সরাসরি আ-ঘাত হানে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় বিশাল জলরাশি আকাশে ছুড়ে দিয়ে হামলার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই জাহাজটির মূল কাঠামো মাঝ বরাবর দ্বিখণ্ডিত হয়ে সাগরে তলিয়ে যায়। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই বিধ্বংসী আক্রমণকে ‘নীরব মৃত্যু’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ব্যবহৃত হয়েছে ‘মার্ক-৪৮’ হেভিওয়েট টর্পেডো: সামরিক বিশেষজ্ঞদের বরাতে জানা গেছে, ইরানি যুদ্ধজাহাজটি ডোবাতে আধুনিক প্রযুক্তির ‘মার্ক-৪৮’ (Mk-48) হেভিওয়েট টর্পেডো ব্যবহার করা হয়েছে। প্রায় ৩,৮০০ পাউন্ড ওজনের এই মারণাস্ত্র পানির নিচ দিয়ে লক্ষ্যবস্তু খুঁজে বের করে এবং সরাসরি জাহাজের তলদেশে গিয়ে বিস্ফোরিত হয়। এই বিস্ফোরণে সৃষ্ট প্রচণ্ড গ্যাসের বুদ্বুদ জাহাজের প্রধান কাঠামো মুহূর্তেই ভেঙে দেয়, যার ফলে বিশাল আকারের জাহাজটিও দ্রুত দুই টুকরো হয়ে ডুবে যায়।
হতাহতের বড় আশঙ্কা: শ্রীলঙ্কার স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, তাঁরা এখন পর্যন্ত ৩২ জন ইরানি নাবিককে জীবিত উদ্ধার করতে পেরেছেন। তবে ধারণা করা হচ্ছে, জাহাজটিতে প্রায় ১৮০ জন আরোহী ছিলেন। ফলে নিহতের সংখ্যা অনেক বড় হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
৮০ বছরের ইতিহাস ভাঙল যুক্তরাষ্ট্র: আন্তর্জাতিক তথ্যমতে, সর্বশেষ ১৯৪৫ সালের ১৪ আগস্ট মার্কিন সাবমেরিন থেকে জাপানের একটি জাহাজে টর্পেডো ছোঁড়া হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ আট দশকে ইরাক, আফগানিস্তান কিংবা ইয়েমেন সংঘাতের সময় মার্কিন সাবমেরিনগুলো নিয়মিত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করলেও কোনো জাহাজ ডোবানোর কাজে টর্পেডো ব্যবহার করেনি। ভারত মহাসাগরের এই ঘটনা আন্তর্জাতিক সামরিক ইতিহাসে এক নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।