
ভোটের ঠিক আগ মুহূর্তে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ ভাষণে, বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান অতীতের ভুল-ত্রুটির জন্য দেশবাসীর কাছে সরাসরি ক্ষমা চেয়েছেন। একই সঙ্গে, একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্য আবেগঘন আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
গতকাল সোমবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও বেতারে প্রচারিত ৩৭ মিনিটের এই ভাষণে তারেক রহমান বলেন, “অতীতে আপনাদের সমর্থনে আমরা দেশ পরিচালনা করেছি। সেই সময়ে হয়তো আমাদের অনিচ্ছাকৃত কিছু ভুল-ত্রুটি হয়েছে। সেজন্য আমি দেশবাসীর কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।”
তিনি আরও বলেন, “অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এবং অর্জনগুলোকে ভিত্তি করে, আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে চাই। এই লক্ষ্যেই আগামী নির্বাচনে আপনাদের সমর্থন চাই।”
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার
তারেক রহমান তার ভাষণে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতি দমনে কঠোর হওয়ার অঙ্গীকার করেন। তিনি বলেন, “জনগণের কাছে রাষ্ট্র ও সরকারকে দায়বদ্ধ রাখার কোনো বিকল্প নেই। আপনারা সমর্থন দিলে বিএনপি সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোর হবে। এটি আমার এবং আমার দলের অঙ্গীকার।”
সবার জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য একটি নিরাপদ রাষ্ট্র গড়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বিএনপি এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চায়, যেখানে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান—প্রত্যেক নাগরিক নিরাপদ বোধ করবে। ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার—এই নীতিতে আমরা বিশ্বাসী।”
তরুণ ও নারীদের জন্য বিশেষ অগ্রাধিকার
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নারীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাই হবে তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। এছাড়া ফ্যামিলি কার্ড, বেকার ভাতা এবং প্রবাসী কার্ডের মতো জনকল্যাণমূলক পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
সবশেষে, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার স্বপ্নপূরণ এবং দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য তিনি দেশবাসীকে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “গত ৭ জানুয়ারির ডামি নির্বাচনে আমি আপনাদের বলেছিলাম পরিবারকে সময় দিতে। আর এখন ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে আমি আবেদন করছি, ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদিন ধানের শীষে ভোট দিন। আপনারা প্রার্থীদের দায়িত্ব নিন, ১৩ তারিখ থেকে তারা আপনাদের দায়িত্ব নেবে।”