
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | Falconnews24.com
উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক শক্তির দম্ভ চূর্ণ করে দিয়েছে ইরান। যুদ্ধের শুরুর কয়েক দিনেই যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং ব্যয়বহুল ‘থাড’ (THAAD) ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি প্রধান রাডার ধ্বংস করে দিয়েছে তেহরান। মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে ব্লুমবার্গ এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।
হামলার ভয়াবহতা ও ক্ষয়ক্ষতি: স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে সিএনএন জানিয়েছে, জর্ডানের মুয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে মোতায়েন করা মার্কিন ‘টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স’ বা থাড ব্যবস্থার রাডার এবং এর আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, শুধু এই রাডার সিস্টেমটির মূল্যই প্রায় ৩০ কোটি ডলার।
প্রতিরক্ষায় বিশাল ফাটল: ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিসের বিশেষজ্ঞ রায়ান ব্রবস্ট জানান, এই রাডারটি ধ্বংস হওয়ায় জর্ডানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের ফাঁক তৈরি হয়েছে। থাড ব্যবস্থা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার জন্য প্যাট্রিয়ট ব্যাটারির চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী। এখন এই রাডারটি অচল হওয়ায় পুরো দায়িত্ব প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থার ওপর পড়েছে, যা আমেরিকার জন্য চরম ঝুঁকির কারণ।
২ বিলিয়ন ডলারের সরঞ্জাম হারাল যুক্তরাষ্ট্র: তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতের মধ্যে আমেরিকা এ পর্যন্ত প্রায় ২ বিলিয়ন (২০০ কোটি) ডলার সমমূল্যের সামরিক সরঞ্জাম হারিয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে দক্ষিণ কোরিয়ায় মোতায়েন থাকা মার্কিন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এখন মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা চালাচ্ছে ওয়াশিংটন ও সিউল।
লুকিয়ে রাখা হয়েছিল তথ্য: জানা গেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এবং ৩ মার্চ জর্ডানের ঘাঁটিতে ইরান দু’টি বড় হামলা চালায়। শুরুতে মার্কিন বাহিনী দাবি করেছিল তারা সব হামলা প্রতিহত করেছে। কিন্তু স্যাটেলাইট ছবি ও পরে মার্কিন কর্মকর্তাদের স্বীকারোক্তিতে এখন রাডার ধ্বংসের খবরটি প্রকাশ্যে এলো।