
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ফ্যালকন নিউজ ২৪ ১৪ মার্চ, ২০২৬
ইরানের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপে মার্কিন বিমান বাহিনীর সাম্প্রতিক অভিযানের পর মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ইরানের অভিজাত সামরিক শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক কড়া বিবৃতিতে জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনী যদি ইরানের তেল অবকাঠামোতে পুনরায় আঘাত হানে, তবে মধ্যপ্রাচ্যে সক্রিয় সমস্ত মার্কিন তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলোকে ‘ছাইয়ের স্তূপে’ পরিণত করা হবে।
শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স এবং তাসনিম নিউজ আইআরজিসির এই হুঁশিয়ারি প্রচার করেছে। মূলত গতকাল শুক্রবার খার্গ দ্বীপে মার্কিন অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় এই হুমকি দিল তেহরান।
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ও বর্তমান পরিস্থিতি: অভিযানের পর আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক বার্তায় জানান, তিনি আপাতত দ্বীপটির তেল স্থাপনাগুলো পুরোপুরি ধ্বংস না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, “ইরান বা অন্য কেউ যদি হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা দেয়, তবে আমি এই সিদ্ধান্ত দ্রুত পুনর্বিবেচনা করব।” ট্রাম্পের এই বার্তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আইআরজিসি মার্কিন কোম্পানিগুলোর ওপর পাল্টা হামলার হুমকি দেয়।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই খার্গ দ্বীপ? পারস্য উপসাগরে অবস্থিত মাত্র ৫ বর্গমাইল আয়তনের এই ছোট দ্বীপটিকে ইরানের ‘অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড’ বলা হয়। কারণ:
ইরানের মোট অপরিশোধিত তেল এবং তরল গ্যাসের ৯০ শতাংশই এই দ্বীপ থেকে বিদেশে রপ্তানি হয়।
ভৌগোলিকভাবে এটি হরমুজ প্রণালী থেকে মাত্র ৪৮৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত, যা বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান পথ।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পাল্টাপাল্টি হুমকির ফলে বিশ্ব বাজারে তেলের দামে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কালো মেঘ আরও ঘনীভূত হচ্ছে।