
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | Falconnews24.com
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ও মুসলিম বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র এক চরম আত্মঘাতী ও ঐতিহাসিক ‘বড় ভুল’ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংকট্যাংক আটলান্টিক কাউন্সিলের উপদেষ্টা হারলান উলম্যান। তার মতে, শীর্ষ নেতৃত্বকে ‘শহীদ’ করার এই কৌশল হিতে বিপরীত হতে পারে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমেরিকার আধিপত্য চিরতরে মুছে দিতে পারে।
আমেরিকার জন্য কাল হবে এই ভুল: হারলান উলম্যান আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট জানান, খামেনিকে হত্যার মাধ্যমে তাকে একজন অমর ‘শহীদ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। এর ফলে প্রতিরোধ যোদ্ধারা এখন অতীতের চেয়েও অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ। তিনি সতর্ক করেন যে, আলী লারিজনীর মতো দক্ষ নেতাদের হাতে নেতৃত্ব চলে যাওয়ায় ইরানের অবস্থান এখন আরও বেশি আপসহীন ও কঠোর হবে।
আইআরজিসি-র বিধ্বংসী প্রতিশোধের ডাক: খামেনির শাহাদাতের খবর নিশ্চিত হওয়ার পরপরই গর্জে উঠেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। এক বিশেষ বার্তায় তারা ঘোষণা দিয়েছে, দখলদার ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে থাকা সব মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ‘ইরানের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ও বিধ্বংসী আক্রমণ’ শুরু হতে যাচ্ছে। তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, “এই মহাপ্রলয় শুরু হতে আর মাত্র কয়েক মুহূর্ত বাকি।” খামেনিকে ‘মানবতার শত্রুদের হাতে শহীদ’ উল্লেখ করে তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, ইরানি জাতির এই প্রতিশোধের হাত থেকে কোনো জালিমের রেহাই মিলবে না।
ট্রাম্পের দম্ভোক্তি ও বিশ্বজুড়ে উত্তেজনা: অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দম্ভ করে দাবি করেছেন যে, একদিনের অভিযানেই তিনি ইরানকে ‘বিলীন’ করে দিয়েছেন। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই দম্ভোক্তি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাদের জীবনকে চরম ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছে।
৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক: ইরানি কর্তৃপক্ষের ঘোষণা অনুযায়ী, রবিবার ভোরে নিজ দপ্তরে দায়িত্ব পালনকালে খামেনি শাহাদাত বরণ করেন। তার সম্মানে ইরানে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে এখন কোটি কোটি মানুষের দৃষ্টি মধ্যপ্রাচ্যের দিকে। খামেনির রক্তের বিনিময়ে কি তবে স্বাধীন হবে ফিলিস্তিন আর পতন ঘটবে আধিপত্যবাদী শক্তির? সেই প্রশ্নই এখন তুঙ্গে।