
হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যস্থতায় বাধা সৃষ্টি হওয়ায় মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। হরমুজ প্রণালি খোলার বিষয়ে ইরানের দেওয়া শর্তের জবাবে ট্রাম্প অতীত যুদ্ধ, হামলা ও বিক্ষোভে হওয়া হতাহতের ক্ষতিপূরণ দাবি করার পর মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত এই জলপথ চালুর প্রচেষ্টা নতুন সংকটে পড়েছে।
আগের দিন সোমবারে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। মঙ্গলবার এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকায় ব্র্যান্ড ক্রুডের প্রতি ব্যারেলের দাম বেড়ে দাঁড়ায় ৮৮ ডলারে এবং মার্কিন ক্রুডের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২ দশমিক ৪৫ ডলারে। গত ৩১ জুলাইয়ের পর উভয় জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রে এটিই সর্বোচ্চ বাজারমূল্য।
বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ নিশ্চিত করে। এই প্রণালি বন্ধ থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ইতিমধ্যেই ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।
অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, হরমুজ প্রণালির এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতির হার আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে তেল আমদানিকারক দেশগুলোর জন্য এটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশকে বিকল্প জ্বালানি উৎসের দিকে নজর দিতে হবে বলে মত দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।