
উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় রাতের হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তাদের বিমানবাহিনী ইরানের ৯০টি কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে সফল হামলা চালিয়েছে। এই হামলার মূল লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা।
হামলার লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে ছিল ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় রাডার স্টেশন, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন স্টোরেজ ফ্যাসিলিটি, নৌবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং সামরিক সরবরাহ নেটওয়ার্ক। মার্কিন সেনাবাহিনী তাদের এক্স অ্যাকাউন্টে হামলার ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে কিভাবে সুনির্দিষ্টভাবে এসব লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হচ্ছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, বন্দর আব্বাস, সিরিক, জাস্ক, কোনারাক ও চাবাহার এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে বন্দর আব্বাসে আটটি বড় বিস্ফোরণের খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, গভীর রাতে আকাশে মার্কিন যুদ্ধবিমান এবং ক্ষেপণাস্ত্রের শব্দ শুনতে পাওয়া গেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলাকে ইরানের পূর্ববর্তী জাহাজ হামলার ‘প্রতিশোধ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, “যদি ইরান আবার এমন কোনো হামলা চালায়, তাহলে পরিণতি হবে আরও ভয়াবহ”। এই হামলাকে ইরানে আগের দিনের সফল অভিযানের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখছে পেন্টাগন।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই হামলা উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের তেল সরবরাহের একটি বড় অংশ চলাচল করে, যা ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলছে।