
নিজস্ব প্রতিবেদক, ফ্যালকন নিউজ২৪ যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নৌ-অবরোধ এবং ইরানের পাল্টা অনড় অবস্থানের কারণে ট্রাম্প ঘোষিত যুদ্ধবিরতির ৫৫তম দিনে এসে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়া। হরমুজ প্রণালীতে ইরানের জাহাজ আটক এবং গুলিবর্ষণের ঘটনায় নতুন করে যুদ্ধের দামামা বাজছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পরিষ্কার জানিয়েছেন, তেহরান আলোচনা চায়, কিন্তু আমেরিকার ‘প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এবং অবরোধ’ বজায় রেখে কোনো সমঝোতা সম্ভব নয়। এদিকে হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শান্তি প্রস্তাব জমা দেওয়ার জন্য ইরানকে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেননি। তবে সাগরে উত্তেজনা কমছে না। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দুটি বিদেশি জাহাজ আটক করেছে এবং একটিতে গুলি চালিয়েছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, মার্কিন নৌ-অবরোধ বহাল থাকলে তারা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী আর খুলবে না।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তারা ১০ হাজার সৈন্য এবং ১৭টি যুদ্ধজাহাজ নিয়ে বড় আকারের অবরোধ জারি রেখেছে। ইতিমধ্যে ৩১টি তেলবাহী জাহাজকে তারা ফেরত পাঠিয়েছে। পেন্টাগনেও চলছে বড় রদবদল; নৌ-সচিব জন ফেলানকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তে যুদ্ধবিরতি থাকলেও আল-আখবার পত্রিকার সাংবাদিক আমাল খলিলসহ পাঁচজন ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। গাজাতেও থামেনি সংঘাত, সেখানে তিন শিশুসহ পাঁচজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশে প্রভাব ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে জ্বালানি তেলের বাজারে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের অধিকাংশ তেল পরিবহন করা হয়। এটি বন্ধ হলে বা উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়বে। যেহেতু বাংলাদেশ জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল, তাই দেশের বাজারে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ এবং পরিবহন ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা ও রেমিট্যান্স প্রবাহেও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
সারসংক্ষেপ: মার্কিন অবরোধ এবং ইরানের হরমুজ প্রণালী বন্ধের পাল্টাপাল্টি হুমকিতে বিশ্ব অর্থনীতি ও শান্তি আলোচনা এখন খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে।