
বর্তমান পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো আলোচনার টেবিলে বসতে রাজি নয় তেহরান। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপের ফলে পুরো বিশ্ব এখন চরম উদ্বেগের মধ্য দিয়ে সময় পার করছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, আমেরিকার সঙ্গে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করার ব্যাপারে তেহরান এখনো কোনো ইতিবাচক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। বাঘাইয়ের মতে, এই মুহূর্তে পরবর্তী ধাপের কোনো আলোচনার পরিকল্পনা তাদের টেবিলে নেই। বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবরটি বিশ্বজুড়ে প্রচার করেছে। এমন এক সময়ে ইরানের পক্ষ থেকে এই কঠোর বার্তা এলো যখন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স আলোচনার নতুন পথ খুঁজতে ইসলামাবাদ সফর করছেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো থেকে জানা গেছে, তেহরান তাদের অবস্থানে অনড়। তারা জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র যতক্ষণ পর্যন্ত ইরানের ওপর থেকে নৌ অবরোধ তুলে না নেবে, ততক্ষণ তারা কোনো ধরনের সমঝোতায় আসবে না। সম্প্রতি পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে যখন মার্কিন নৌবাহিনী ইরানের একটি পতাকাবেবাহী কার্গো জাহাজ আটক করার খবর দেয়। এর জবাবে ইরানও বসে থাকেনি; তারা মার্কিন সামরিক জাহাজ লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরণের পাল্টাপাল্টি উস্কানি ও সামরিক শক্তি প্রদর্শন শান্তি প্রক্রিয়ার পথকে পুরোপুরি রুদ্ধ করে দিচ্ছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের এই বৈরী অবস্থান পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
ইরান ও আমেরিকার এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রভাব বাংলাদেশের ওপর সরাসরি পড়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। প্রথমত, মধ্যপ্রাচ্যে কোনো ধরনের সংঘাত শুরু হলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বেড়ে যাবে। বাংলাদেশ যেহেতু জ্বালানি আমদানির ওপর সরাসরি নির্ভরশীল, তাই এর ফলে দেশের অভ্যন্তরে পরিবহন খরচ ও নিত্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী হতে পারে।
দ্বিতীয়ত, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের কয়েক মিলিয়ন প্রবাসী শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন। ওই অঞ্চলে যুদ্ধাবস্থা তৈরি হলে এই বিশাল সংখ্যক শ্রমিকের নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়বে। এতে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স প্রবাহ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যা বাংলাদেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত। এছাড়া আন্তর্জাতিক নৌপথ অনিরাপদ হয়ে পড়লে পণ্য আমদানি-রপ্তানির খরচও বহুগুণ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সার্বিকভাবে, ইরান-আমেরিকা সম্পর্ক স্বাভাবিক না হলে বিশ্ব অর্থনীতি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার পাশাপাশি বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলো বড় ধরনের সংকটে পড়বে।