
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক | ফ্যালকন নিউজ ২৪ ২ এপ্রিল ২০২৬
অ্যাপোলো যুগের অবসানের দীর্ঘ কয়েক দশক পর আবারও চাঁদের অভিমুখে যাত্রা শুরু করেছে মানবজাতি। মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার ‘আর্টেমিস-২’ মিশনের মাধ্যমে চার নভোচারী পাড়ি দিচ্ছেন গভীর মহাকাশে। ১০ দিনের এই ঐতিহাসিক অভিযানের বিস্তারিত ধাপগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
উৎক্ষেপণ ও প্রথম ধাপ: ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে নাসার সবথেকে শক্তিশালী রকেট ‘স্পেস লঞ্চ সিস্টেম’ (SLS)-এর মাধ্যমে এই মিশন শুরু হয়। ওরিয়ন ক্যাপসুলে থাকা চার নভোচারী প্রথম দুই দিন পৃথিবীর কক্ষপথে থেকে মহাকাশযানের জীবনরক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা পরীক্ষা করবেন।
চাঁদের পথে যাত্রা: পরীক্ষা সফল হলে ‘ট্রান্সলুনার ইনজেকশন’-এর মাধ্যমে ওরিয়ন পৃথিবীর কক্ষপথ ছেড়ে চাঁদের দিকে রওনা হবে। মিশনের ৩য় ও ৪র্থ দিনে নভোচারীরা পৃথিবী থেকে রেকর্ড পরিমাণ দূরত্ব অতিক্রম করবেন, যা এর আগে কোনো মানববাহী যান করেনি।
চাঁদ প্রদক্ষিণ ও প্রত্যাবর্তন: ৫ম দিনে ওরিয়ন চাঁদের উল্টো পিঠ দিয়ে প্রদক্ষিণ করবে। এটি একটি ‘ফ্রি-রিটার্ন’ পথ, যা কোনো অতিরিক্ত জ্বালানি ছাড়াই মহাকাশযানটিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পৃথিবীর দিকে ফিরিয়ে আনবে। এরপর ৫ থেকে ৮ দিনের মাথায় নভোচারীরা গভীর মহাকাশের বিভিন্ন পরীক্ষা চালাতে চালাতে পৃথিবীর পথে ফিরবেন।
সাগরে অবতরণ: যাত্রার শেষ পর্যায়ে ওরিয়ন ঘণ্টায় প্রায় ৪০ হাজার কিমি গতিতে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করবে। এরপর প্যারাসুটের মাধ্যমে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করলে উদ্ধারকারী দল নভোচারীদের ফিরিয়ে আনবে। এই মিশন সফল হলে এই দশকের শেষেই আবারও চাঁদের মাটিতে মানুষের পা পড়বে বলে আশা করছে নাসা।