
সংসদীয় ডেস্ক | ফ্যালকন নিউজ ২৪ ৩০ মার্চ ২০২৬
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা আলোচিত ‘গণভোট অধ্যাদেশ’ শেষ পর্যন্ত বিল আকারে সংসদে না তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশেষ কমিটি। রোববার (২৯ মার্চ) রাতে জাতীয় সংসদের ক্যাবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত তিন ঘণ্টাব্যাপী এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী।
সরকারের যুক্তি: বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, গণভোট অধ্যাদেশের কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়ে গেছে। যে উদ্দেশ্যে এটি করা হয়েছিল তা অর্জিত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এর অধীনে আর কোনো গণভোট হবে না। তাই একে নতুন করে আইন বা রেটিফিকেশন করার প্রয়োজন নেই বলে মনে করে সরকার।
বিরোধীদের আপত্তি ও ‘নোট অব ডিসেন্ট’: কমিটির সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর এমপি রফিকুল ইসলাম খান এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘গণভোটের রায়ের সাথে গোটা জাতি জড়িত। এটি বাতিল করা মানে জনগণের রায়কে অস্বীকার করা।’ তিনি আরও জানান, মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন এবং দুদক-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় ‘দলীয়করণের’ চেষ্টা করছে সরকার। এসব বিষয়ে বিরোধী দলের সদস্যরা অন্তত ১৫টি অধ্যাদেশের ওপর ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা লিখিত আপত্তি দিয়েছেন।
সংসদে প্রতিবেদন পেশ ২ এপ্রিল: বিশেষ কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই করা হয়। যার মধ্যে মাত্র ১০-১৫টি বিষয়ে সরকারি ও বিরোধী দল একমত হতে পেরেছে। আগামী ২ এপ্রিল এই কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন সংসদে পেশ করা হবে এবং সেখানেই এসব আইন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও ভোটাভুটি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।