
অর্থনীতি ডেস্ক | ফ্যালকন নিউজ ২৪ ২৭ মার্চ ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্য ও হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুদ্ধের ভয়াবহ অস্থিরতার মধ্যেও ইরানের অর্থনীতিতে বইছে সুবাতাস। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরণের ধাক্কা লাগলেও, সেই পরিস্থিতিকেই কাজে লাগিয়ে ইরান প্রতিদিন তেল বিক্রি থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় করছে। এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের এই ডামাডোলের মাঝেই ইরান দৈনিক প্রায় ১৩৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করছে, যা বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকারও বেশি।
যুদ্ধের বাজার ও ইরানের লাভ: সংবাদমাধ্যমটি জানাচ্ছে, হরমুজ প্রণালি সংকটের মধ্যেই তেল বিক্রি থেকে এই বিপুল পরিমাণ আয় ইরানের অর্থনৈতিক অবস্থানকে অবিশ্বাস্যভাবে শক্তিশালী রাখছে। যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। আর এই সুযোগে ইরান তাদের তেল রপ্তানি চালু রাখতে পেরেছে। মজার বিষয় হলো, যুদ্ধের আগে ইরানি তেল আন্তর্জাতিক ব্রেন্ট তেলের তুলনায় ব্যারেলপ্রতি ১০ ডলারের বেশি ছাড়ে বিক্রি হতো, যা এখন কমে মাত্র ২.১০ ডলারে নেমে এসেছে। অর্থাৎ, ইরান এখন অনেক বেশি দামে তেল বিক্রি করতে পারছে।
আমেরিকার ওপর চাপ: পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলা চললেও ইরানের অর্থনৈতিক প্রবাহ বজায় থাকায় তাদের সামরিক চাপ অনেকটাই কম কার্যকর হয়েছে। এমনকি যুদ্ধের কারণে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে যুক্তরাষ্ট্র সমুদ্রপথে থাকা কিছু ইরানি তেলের ওপর সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে। স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে নিয়মিত বড় তেলবাহী জাহাজ ভিড়ছে এবং তেল লোড হচ্ছে। আমেরিকার হামলা কেবল সামরিক স্থাপনায় হয়েছে, তেল অবকাঠামো অক্ষত রয়েছে।
অর্থনীতি পুনর্গঠন ও অস্ত্রের মজুদ: উচ্চমূল্যে তেল বিক্রি ইরানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সাম্প্রতিক হামলায় দেশটির অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অর্থনীতি পুনর্গঠনে বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। একই সঙ্গে পাল্টা হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রও পুনরায় মজুদ করতে হবে। এছাড়া ইরান হরমুজ প্রণালির বাইরে অবস্থিত জাস্ক টার্মিনাল থেকেও তেল পাঠাচ্ছে। এমনকি প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী কিছু বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে ট্রানজিট ফি বাবদ সর্বোচ্চ ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত আয় করছে তেহরান।