
নিজস্ব প্রতিবেদক | Falconnews24.com
নির্বাসন থেকে ফেরার পর বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ বা পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন, সরকার গঠনের মাত্র দশ দিনের মাথায় তার সফল বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর শপথ নেওয়ার পর থেকেই একের পর এক যুগান্তকারী ও জনকল্যাণমুখী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তিনি সমালোচকদের জবাব দিতে শুরু করেছেন।
সরকার পরিচালনায় কৃচ্ছসাধন ও নজির: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্ষমতার শীর্ষে থেকেও ব্যক্তিগত জীবনযাপনে অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। তিনি সরকারি গাড়ির বদলে নিজের ব্যক্তিগত গাড়ি, নিজস্ব চালক ও নিজস্ব জ্বালানি ব্যয় বহন করছেন। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় ব্যবহৃত বিশাল গাড়িবহর ১০টি থেকে কমিয়ে মাত্র ৪টিতে নামিয়ে আনা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে তিনি জ্যামের মধ্যে আটকে থাকছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি ও তার কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান পায়ে হেঁটে সচিবালয় থেকে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে যান।
১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা ও জবাবদিহি: সরকার প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জন্য ১৮০ দিনের সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে আগামী ৬ মাসের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে এবং ব্যর্থ হলে পদ হারানোর হুঁশিয়ারি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জবাবদিহিতার শক্ত বার্তা দিয়েছেন। এছাড়া বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের জন্য ‘ট্যাক্স ফ্রি’ গাড়ি আমদানি ও সরকারি প্লট গ্রহণের সুবিধাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি: শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে বর্তমান সরকার। পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি জানিয়েছেন, প্রথম ১৮০ দিনে ১ হাজার কিলোমিটার খাল খনন দৃশ্যমান করা হবে। এর পাশাপাশি ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারণ করা হয়েছে।
জনজীবনে স্বস্তি ও ফ্যামিলি কার্ড: রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কঠোর নির্দেশনার পাশাপাশি ইফতার ও সেহরিতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সমাজ কল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, আগামী ১০ মার্চ বগুড়া সদরে তারেক রহমান ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন, যা ইতোমধ্যেই ১৭টি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এসব পদক্ষেপ কেবল তাৎক্ষণিক সংকট সামাল দেওয়া নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে একটি স্বনির্ভর ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণেরই প্রতিফলন।