
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ফ্যালকন নিউজ ২৪ ১৫ মার্চ ২০২৬
ইরান-ইসরায়েল সংঘাত কি শেষ পর্যন্ত পারমাণবিক যুদ্ধের রূপ নিতে যাচ্ছে? মার্কিন প্রশাসনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সাম্প্রতিক মন্তব্যে এই আশঙ্কাই এখন বিশ্বরাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টা ডেভিড স্যাকস সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে ইসরায়েল শেষ অস্ত্র হিসেবে পারমাণবিক বোমা ব্যবহারের কথা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে পারে।
কেন এই পারমাণবিক সতর্কতা? ডেভিড স্যাকস তার জনপ্রিয় ‘অল-ইন’ পডকাস্টে বর্তমান পরিস্থিতির এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছেন। তার মতে, ইসরায়েল বর্তমানে তার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সামরিক সংকটের মুখোমুখি। ইরানের পক্ষ থেকে ক্রমাগত হামলা চলতে থাকলে এক সময় ইসরায়েলের অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (যেমন আয়রন ডোম বা অ্যারো) দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। যদি আকাশ প্রতিরক্ষা ভেঙে পড়ে এবং ইসরায়েলের অস্তিত্ব হুমকিতে পড়ে, তবে তেল আবিব নিজেদের রক্ষায় পারমাণবিক শক্তি প্রয়োগ করতে দ্বিধা করবে না।
যুদ্ধবিরতির তাগিদ: মার্কিন এই উপদেষ্টা মনে করেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা বর্তমানে অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। তাই সংঘাত আর না বাড়িয়ে এখনই সমঝোতা বা যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করা প্রয়োজন। অন্যথায়, এই সংঘাত অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পুরো অঞ্চলকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে পারে।
এপ্রিলের মধ্যেই কি যুদ্ধের সমাপ্তি? এদিকে ইসরায়েলি গণমাধ্যমগুলো ভিন্ন একটি ইঙ্গিত দিচ্ছে। দেশটির সেনাপ্রধানের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, তেল আবিব এপ্রিলের শুরুতে ‘পাসওভার’ উৎসবের আগেই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শেষ করতে চায়। তবে মজার ব্যাপার হলো, যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের শাসনব্যবস্থা উৎখাতের যে লক্ষ্য ইসরায়েল নির্ধারণ করেছিল, এখন তারা স্বীকার করছে যে তার সম্ভাবনা বর্তমান পরিস্থিতিতে খুবই কম।