
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি নতুন করে চাপে পড়েছে। মার্কিন বাহিনীর হামলা এবং ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির দিকে ধেয়ে আসা চারটি ইরানি "ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন" ভূপাতিত করা হয়েছে। তাদের দাবি, এসব ড্রোন আঞ্চলিক নৌপথের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছিল।
পরে মার্কিন বাহিনী ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত কয়েকটি উপকূলীয় নজরদারি রাডার স্থাপনায় হামলা চালায়। ওয়াশিংটনের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ছিল সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ হামলা ঠেকাতে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা।
জবাবে ইরান কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
সেন্টকমের দাবি, নিক্ষেপ করা সাতটি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ছয়টি প্রতিহত করা হয়েছে এবং বাকি একটি লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও এলএনজি এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই অঞ্চলে সংঘাত বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেতে পারে, যার প্রভাব বাংলাদেশসহ আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপরও পড়বে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি ভেঙে গেলে বিশ্ব অর্থনীতি নতুন চাপের মুখে পড়তে পারে।
সারসংক্ষেপ: ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও পাল্টা হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি আবারও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।