
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিখোঁজ বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টির খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দীর্ঘ কয়েক দিনের উৎকণ্ঠার অবসান ঘটিয়ে পুলিশ গত রবিবার রাতে ট্যাম্পা বে এলাকার একটি সেতুর কাছ থেকে তাঁর দেহাবশেষ উদ্ধারের খবর নিশ্চিত করে।
নাহিদা বৃষ্টি ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডায় উচ্চশিক্ষার জন্য অবস্থান করছিলেন। গত সপ্তাহে তিনি এবং জামিল লিমন নামে আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী একসাথে নিখোঁজ হন। এর আগে গত শুক্রবার লিমনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ পাওয়া গিয়েছিল। এবার বৃষ্টির মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধারের ঘটনায় প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে গভীর শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, এই জোড়া খুনের পেছনে মূল অভিযুক্ত হিসেবে লিমনের রুমমেট ২৬ বছর বয়সী হিশাম আবুঘরবেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ভয়াবহ সব তথ্য। লিমনের মরদেহ একটি ব্রিজের ওপর পচন ধরা অবস্থায় ট্র্যাশ ব্যাগে পাওয়া যায়। প্রসিকিউটরদের ধারণা, ঘাতক হিশাম একইভাবে বৃষ্টিকে হত্যা করে তাঁর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে টুকরো করে সরিয়ে ফেলেছিল। হিশামের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে কেন এবং কী কারণে সে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি।
বাংলাদেশে প্রভাব এই ঘটনার খবর দেশে আসার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিশেষ করে বৃষ্টির পরিবার এবং সহপাঠীদের মধ্যে হাহাকার বিরাজ করছে। বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিদেশে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত বিচারের দাবি তোলা হচ্ছে। প্রবাসী শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বৈদেশিক মিশনগুলোর নজরদারি বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।
সারসংক্ষেপ: যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী বৃষ্টির খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার এবং খুনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।