
নিজস্ব প্রতিবেদক, ফ্যালকন নিউজ ২৪ ২৭ এপ্রিল ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে এক অভাবনীয় ও লোমহর্ষক মোড় এসেছে। এই নৃশংস খুনের প্রধান সন্দেহভাজন হিশাম সালেহ আবুঘরবেহ খুনের ছক সাজাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা চ্যাটজিপিটির সাহায্য নিয়েছিলেন বলে প্রমাণ পেয়েছেন তদন্তকারীরা।
মূল ঘটনা ও তদন্তের তথ্য গত শুক্রবার ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকা থেকে লিমনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধারের পর গ্রেপ্তার করা হয় তার রুমমেট আবুঘরবেহকে। আদালতের নথিতে দেখা গেছে, লিমন ও বৃষ্টি নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন আগে থেকেই খুনি তার ফোনে চ্যাটজিপিটিকে বিভিন্ন অপরাধমূলক প্রশ্ন করতে শুরু করে। ১৩ এপ্রিল সে জানতে চেয়েছিল, "কাউকে কালো আবর্জনার ব্যাগে ভরে ডাস্টবিনে ফেলে দিলে কী হতে পারে?" যখন চ্যাটবটটি একে 'বিপজ্জনক' বলে সতর্ক করে, তখন সে পাল্টা প্রশ্ন করে— "তারা (পুলিশ) কীভাবে বিষয়টি জানতে পারবে?"
খুনের আগে ও পরের প্রস্তুতি তদন্ত কর্মকর্তাদের দাখিল করা আবেদন অনুযায়ী, ঘটনার আগের দিন খুনি আরও জানতে চেয়েছিল যে গাড়ির শনাক্তকরণ নম্বর (VIN) বদলানো যায় কি না বা লাইসেন্স ছাড়া ঘরে বন্দুক রাখা যায় কি না। এখানেই শেষ নয়, হত্যার তিন দিন পরও সে চ্যাটজিপিটিকে জিজ্ঞেস করেছিল, "স্নাইপারের গুলিতে মাথায় আঘাত পাওয়ার পর কেউ বেঁচে থাকে কি না" এবং "প্রতিবেশীরা বন্দুকের শব্দ পাবে কি না"।
তদন্তে আরও দেখা যায়, ১৬ এপ্রিল রাতে যখন লিমন ও বৃষ্টির ফোন নিখোঁজ হয়, তখন খুনি আবুঘরবেহর গাড়ির জিপিএস সিগন্যাল ও লিমনের ফোনের লোকেশন একই পথে ছিল। অ্যাপার্টমেন্টে তল্লাশি চালিয়ে রক্তমাখা জামাকাপড় ও ধস্তাধস্তির চিহ্নও পেয়েছে পুলিশ।
বাংলাদেশে প্রভাব এই ঘটনায় বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষিত সমাজ এবং বিদেশে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম আতঙ্ক ও শোক বিরাজ করছে। নিহত লিমন ও বৃষ্টির শিগগিরই বিয়ে করার কথা ছিল। মেধাবী এই দুই শিক্ষার্থীর এমন অকাল ও নৃশংস মৃত্যুতে দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে বিদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে রুমমেটের হাতে এমন বিশ্বাসঘাতকতা প্রবাসীদের জীবনযাত্রায় পারস্পরিক আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে।
সারসংক্ষেপ মেধাবী দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যার ছক খুনি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে সাজিয়েছিল, যা বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।