দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত হলো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। তবে ইরান যুদ্ধ বন্ধে এই বৈঠক থেকে বড় কোনো অগ্রগতি বা সমাধানের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। বরং দুই পরাশক্তির অবস্থানের পার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যুদ্ধের ৭৭তম দিনে এসে যুক্তরাষ্ট্র চেয়েছিল, চীন যেন ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে এবং যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হতে ভূমিকা রাখে। কিন্তু ট্রাম্পের বেইজিং সফর শেষে এমন কোনো সমঝোতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ইরান যুদ্ধ শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, পুরো বিশ্বের জ্বালানি বাজার, বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাই দ্রুত যুদ্ধবিরতি এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধান জরুরি। চীন আবারও প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের চার দফা শান্তি পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে রাজনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
অন্যদিকে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, বৈঠকে দুই নেতা একমত হয়েছেন যে হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য উন্মুক্ত থাকা উচিত। তবে চীনের বিবৃতিতে ইরানের আরোপ করা সম্ভাব্য টোল বা প্রণালির সামরিকীকরণ নিয়ে সরাসরি কিছু বলা হয়নি।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও দুই দেশের অবস্থানে স্পষ্ট পার্থক্য দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, “ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র পেতে পারবে না।” কিন্তু চীন সরাসরি এমন ভাষা ব্যবহার না করে সংলাপ ও কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন আশা করেছিল চীন আরও সক্রিয়ভাবে ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগ করবে। কিন্তু শি জিনপিং তার আগের অবস্থানেই অনড় থেকেছেন। ফলে ইরান যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টায় নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কারণ বিশ্বের মোট তেল ও তরল গ্যাস পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়েই যায়। যুদ্ধের কারণে ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্প-শি বৈঠক বাণিজ্যিক সম্পর্ক কিছুটা সহজ করলেও ইরান ইস্যুতে দুই দেশের দূরত্ব এখনো কমেনি। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।