
আলী আহমেদ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ফ্যালকন নিউজ ২৪ ২২ এপ্রিল ২০২৬
ভয়াবহ যুদ্ধের আশঙ্কা থেকে বিশ্বকে এক বড় স্বস্তি দিয়ে এক ঐতিহাসিক ও নাটকীয় ঘোষণা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। মঙ্গলবার নির্ধারিত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা জানান।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সাফল্য: মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বড় সিদ্ধান্তের নেপথ্যে একটি বিশাল ভূমিকা পালন করেছে পাকিস্তান। ট্রাম্প জানিয়েছেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতা এবং দেশটির সরকারের বিশেষ অনুরোধে সাড়া দিয়ে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমিত করে বিশ্ব অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার এবং দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের ঝুঁকি এড়ানোর সুযোগ তৈরি করলেন।
শান্তি আলোচনার 'একান্ত' সুযোগ: মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করেছেন যে, এটি কোনো সাময়িক বিরতি নয়, বরং এটি একটি প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠার সুযোগ। ট্রাম্পের মতে, “ইরানের পক্ষ থেকে একটি ‘সমন্বিত প্রস্তাব’ বা শান্তির বিস্তারিত রোডম্যাপ না আসা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র দেশটিতে কোনো ধরনের হামলা চালাবে না।” দুই সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া এই যুদ্ধবিরতিকে এখন এক পূর্ণাঙ্গ শান্তি আলোচনার ভিত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্পের এই পিছু হটা বিশ্ব কূটনীতিতে বড় ধরণের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
কড়া অবরোধ কিন্তু বহাল: তবে হামলা স্থগিত করলেও ট্রাম্প ইরানের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ বা অবরোধ অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, আলোচনা চলাকালীন সময়েও মার্কিন সামরিক বাহিনী ‘সম্পূর্ণ প্রস্তুত’ থাকবে। অবরোধ বহাল রাখা নিয়ে তিনি বলেন, “আমরা আমাদের অবরোধ অব্যাহত রাখব এবং আলোচনার পরিণতি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত সামরিক সক্ষমতা বজায় রাখব।”
এদিকে ইরানের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে মিশ্র প্রতিক্রিয়ায় দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক কিছু প্রতিক্রিয়ায় তেহরান এই ঘোষণাকে মার্কিন ‘কৌশল’ বলে বর্ণনা করেছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) অধিভুক্ত বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধবিরতি বাড়াতে বলেনি। বরং তেহরান ফের মার্কিন নৌ-অবরোধ শক্তি দিয়ে ভাঙার হুমকি দিয়েছে। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবফ ট্রাম্পের ঘোষণাকে ‘কৌশল’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন যে, এর তেমন কোনো ‘গুরুত্ব নেই’।
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে দুই মাসের যুদ্ধের পর মার্কিন এই সিদ্ধান্তের ফলে পরিস্থিতি এক নতুন মোড় নিল। যুদ্ধের অন্যতম মিত্র ইসরায়েল এই সিদ্ধান্ত মেনে নেবে কি না, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত কিছু জানা যায়নি।