
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ফ্যালকন নিউজ ২৪ l ২২ এপ্রিল ২০২৬
ইরান ইস্যু নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তেহরানের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী দাবি সামনে আসছে। একদিকে ট্রাম্প দাবি করছেন ইরান ধ্বংসের শেষ প্রান্তে, অন্যদিকে তেহরান বলছে তারা কয়েক দশকের নিষেধাজ্ঞার মতোই বর্তমান চাপও সামলে নিতে সক্ষম। এই দুই ভিন্ন বাস্তবতার মাঝে আসলে কার অবস্থানে সত্যতা বেশি, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।
ট্রাম্পের দাবি: ‘দেউলিয়া হওয়ার পথে ইরান’ বুধবার সকালে একাধিক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান বর্তমানে ভয়াবহ আর্থিক ধসের মুখে। তার মতে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় দেশটি প্রতিদিন ৫০০ মিলিয়ন ডলার আয় হারাচ্ছে এবং অর্থাভাবে দেশটির সামরিক বাহিনীর বেতন পর্যন্ত দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ট্রাম্পের ভাষায়, “ইরান টাকার জন্য হাহাকার করছে এবং তারা যে কোনো মূল্যে দ্রুত হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে চায়।”
ইরানের পাল্টা জবাব: ‘৪৭ বছর টিকলে, এখন কেন নয়?’ ট্রাম্পের এই দাবিকে স্রেফ ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’ হিসেবে দেখছে তেহরান। তাদের পাল্টা যুক্তি হলো, যে দেশ গত ৪৭ বছর ধরে চরম মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সহ্য করে টিকে আছে, তারা মাত্র দুই সপ্তাহের উত্তেজনায় ধসে পড়বে—এমনটা ভাবা বোকামি। ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা মার্কিন চাপে নতি স্বীকার করে কোনো অসম চুক্তিতে যাবে না এবং আলোচনায় বসার জন্য কোনো তাড়াহুড়োও তাদের নেই।
আসল চাপে আছে কে? বিশ্লেষকরা বলছেন, এখানে একটি বড় বৈপরীত্য রয়েছে। ট্রাম্প যদি দাবি করেন ইরান ‘রক্তক্ষরণ’ হয়ে শেষ হয়ে যাচ্ছে, তবে কেন এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা বা চুক্তি হচ্ছে না? অন্যদিকে, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রকেও বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করতে হচ্ছে। কোনো পক্ষই যখন পিছু হঠছে না এবং আলোচনা যখন ঝুলে আছে, তখন প্রশ্ন উঠছে—আসলে কার পাল্লা বেশি ভারী?
এক পক্ষ দাবি করছে নিরঙ্কুশ আধিপত্যের, অন্য পক্ষ দেখাচ্ছে টিকে থাকার জেদ। এই দুই ভিন্ন বাস্তবতার লড়াই এখন বিশ্ব রাজনীতিকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।