
দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণে অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, অতীতের চর্চা নয়, বরং সেখান থেকে শিক্ষা নিয়েই ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার রাজধানীর সেনাকুঞ্জে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ সবার এবং দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি সদস্যদের অবদান শুধু দেশের জন্য নয়, বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শান্তিরক্ষা মিশনে শহীদ হওয়া সদস্যদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, তাদের এই আত্মদান যুদ্ধবিরোধী ও শান্তিকামী মানুষের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, চার দশক ধরে দেশের মানুষের আস্থা ও নির্ভরতার প্রতীক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ২০০৯ সালে সশস্ত্র বাহিনীর ওপর বড় ধরনের আঘাত এসেছিল এবং সেখান থেকেও শিক্ষা নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
পরিবর্তিত বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রযুক্তিনির্ভর সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। পাশাপাশি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নারী সদস্যদের অংশগ্রহণকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে ভবিষ্যতে তাদের আরও সক্রিয় ভূমিকার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য জাতীয় ঐক্য, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার বার্তাও এতে উঠে এসেছে।
সব মিলিয়ে, অতীতের শিক্ষা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গঠনের আহ্বানই প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের মূল প্রতিপাদ্য ছিল।