
বাংলাদেশের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট আজ জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে। এটি হবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেট, যা দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদে বাজেট উপস্থাপন করবেন। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, বাজেটের সম্ভাব্য আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট হতে যাচ্ছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে আগামী অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার ৬৮ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয়েছে সাড়ে ৬ শতাংশ।
বর্তমানে দেশের অন্যতম বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মূল্যস্ফীতি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতিতে আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।
এছাড়া উদ্যোক্তা উন্নয়ন তহবিলে ২২৫ কোটি টাকা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য ২ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের ঘোষণাও আসতে পারে।
বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, খাদ্য নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জন, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সম্প্রসারণ এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বাজেটের সফল বাস্তবায়ন হলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থায়নের সুযোগ বৃদ্ধি পেতে পারে। একই সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারিত হলে নিম্ন আয়ের মানুষেরাও সরাসরি উপকৃত হবেন।
সব মিলিয়ে, তারেক রহমান সরকারের প্রথম বাজেট দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের রূপরেখা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে যাচ্ছে।